শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, গত রোববার (১২ জুলাই) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সময় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি জানান, পরে ১ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কিশোরীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক তসলিমা আক্তার। জবানবন্দিতে কিশোরী জানান, এক দর্জি তাকে ধর্ষণ করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তিনি বলতে পারেননি। কিশোরী বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং খুব কম কথা বলছেন।

এসআই শফিকুল ইসলাম আরও জানান, মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গত সোমবার (১৩ জুলাই) সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শনের মাধ্যমে তদন্তকাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুস্মিতা সাহা বলেন, সোমবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জান্নাতুল সুলতানা। অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার (ডিআরএস) নূপুর পাল।

ফরিদপুর ব্লাস্টের সমন্বয়কারী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, সরকারি শিশু পরিবারের এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি জানা গেছে। এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি— এ নিশ্চয়তা কে দেবে? এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে গত ৬ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এমএম