হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে হামের রোগীসহ ৮৮ জন ভর্তি আছেন। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সসহ নয়টি পরিবার হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসবাস করছে। তারাও একই সংকটে রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পানির কলগুলো শুকিয়ে আছে। বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনেরা দূরের খাল ও পুকুর থেকে বালতিতে করে পানি এনে ব্যবহার করছেন। অনেকের অভিযোগ, চার দিন ধরে গোসল, টয়লেট ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৫৫ বছর আগে স্থাপিত সাবমার্সিবল টিউবওয়েলের এক হাজার ফুট গভীরে থাকা লোহার পাইপ ও হাউজিংয়ে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্যাটি সমাধানের দায়িত্ব স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী খাদিজা ও মিনারা খাতুন বলেন, দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। গোসল করতে পারছি না। টয়লেট ব্যবহারের পরও পানি পাওয়া যায় না। হাসপাতালের পেছনের খাল থেকে ছেলে বোতলে করে পানি এনে দেয়, সেটাই ব্যবহার করছি।
হামে আক্রান্ত সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আফরোজ আক্তার ও কাজল বেগম বলেন, তিন দিন ধরে পানির কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চাদের কাপড় পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। খালের পানিতে ধুতে হচ্ছে। খুব কষ্টে আছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই টিউবওয়েলে সমস্যা ছিল। নতুন মোটর বসিয়েও সমাধান হয়নি, উল্টো দুটি মোটর পুড়ে গেছে। বর্তমানে পাইপ ওয়াশের কাজ চলছে। এতে সমাধান না হলে পুকুর থেকে অস্থায়ীভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি সরবরাহ চালু করতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। এ জন্য আর্থিক অনুমোদন ও বরাদ্দও প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হাসপাতালের ট্যাংকে পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
এনএইচ