সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনায় মামলা না নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজ্জাকুর রহমান গংয়ের হুমকির প্রেক্ষিতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দেয়ার পরেরদিনই হামলার শিকার হন ওই অধ্যক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক রাজ্জাকুর রহমানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলমান। এদিকে রাজ্জাকুর রহমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসে তদন্তকালীন সময়ে গত বুধবার অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে রাজ্জাকুর রহমান গং। এঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম একটি অভিযোগ দায়েরের পরেই শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের সদরপুরে রাজ্জাকুর রহমান গংয়ের নেতৃত্বে হামলা চালায় মমিনুলসহ অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তরা। এসময় অধ্যক্ষকে মাহেদুলকে বেধড়ক মারধর করে জিম্মি করে তিনটি একশত টাকার ফাকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়।

এদিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার হয়ে রাতেই মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে অধ্যক্ষ মাহেদুল মিঠাপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিঠাপুকুর থানা পুলিশের এসআই ভবেশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যটা অনুযায়ী মামলা রেকর্ডের জন্য পাঁচজন নামীয় আসামি থেকে দুইজনকে আসামি করে বাকিদের অজ্ঞাতনামা আসামি করে পুনরায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে বাদীকে মামলা রেকর্ডের জন্য আশ্বাস প্রদান করে। এরপরেই মামলা রেকর্ড না করাতে কথিত ছাত্র সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের দিয়ে তদবির শুরু করে রাজ্জাকুর রহমান।একই সঙ্গে অভিযুক্ত রাজ্জাকুর রহমানের ছেলের নেতৃত্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধ্যক্ষ মাহেদুলের নামে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিঠাপুকুর থানা পুলিশে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান,অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনায় মামলা না নেয়ার জন্য ছাত্র সমন্বয়ক ও বড় মাপের রাজনৈতিক নেতাদের তদবির চলছে। মারধরের ঘটনায় সত্যটা পাওয়ায় মামলাটি শনিবার রাতেই রেকর্ড হওয়ার কথা ছিলো। এখন অধ্যক্ষকে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে মামলা না নেয়ার জন্য জোর তদবির চলছে।এজন্যই ওসি স্যার মামলা না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন।

ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম জানান,মব সৃষ্টি করে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে আমাকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে। এখন আবার ওরা প্রকাশ্যে হুমকি দিলো।থানায় অভিযোগ দেয়ার পরে আমার উপর হামলার ঘটনায় মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে পুনরায় থানায় অভিযোগ দিলাম। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করে সত্যটা পেয়ে বললো আসামি ৫ জন নয় কমাইতে হবে।পরে আসামি কমাইয়া তদন্তের সত্যটা অনুযায়ী অভিযোগ পুনরায় জমা দিয়েছি। তারপরেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিতেছে নাহ। আমি মব জাস্টিস এর শিকার। এদিকে অভিযুক্ত রাজ্জাকুর রহমান হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন,এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মিঠাপুকুর থানা পুলিশের এসআই ভবেশ জানান,অধ্যক্ষ মাহেদুলকে মারধরের ঘটনায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে এজাহার পুনরায় সংশোধন করে নিয়ে ওসি স্যারকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন মামলা রেকর্ডের বিষয়টি ওসি স্যারের বিবেচনাধীন।

মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী জানান,অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনায় এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি। সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরে মামলা নেয়া হচ্ছে নাহ এমন অভিযোগে উঠেছে মর্মে প্রতিবেদকের প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি যারা বলেছে তাদের বিষয়। এটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম জানান,এবিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএইচ