এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর মিয়া (৩২) বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে। নিহত ঝর্ণা আক্তার তার স্ত্রী ছিলেন। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে ইসমাইলের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাতে দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে বাজিতপুরের নিলখী নয়াহাটে মায়ের বাড়িতে চলে যান ঝর্ণা। সেখানে তিনি মাকে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান।

পরদিন ১২ এপ্রিল রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ওই সময় বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন ঝর্ণা।

এজাহারে বলা হয়, সেখানে ইসমাইল কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণাকে আঘাত করেন। তিনি চিৎকার করলে আরও ছুরিকাঘাত করা হয়। একপর্যায়ে ঝর্ণা মাটিতে পড়ে গেলে তাকে লাথি ও কিল-ঘুষি মারারও অভিযোগ রয়েছে।

ঝর্ণার বোন স্বপ্না আক্তার, রাজিব মিয়া ও সবুজ মিয়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ইসমাইল সবুজ মিয়ার হাতেও ছুরিকাঘাত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা ঝর্ণাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর ঝর্ণার মা মোছা. জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়।

পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠায়। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত ইসমাইল সাগর মিয়াকে স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

এস