এসি ল্যান্ড আল ইয়াসা রহমান তাপাদার, নাজির কাম ক্যাশিয়ার ও আওয়ামীলীগ নেতা এ এস এম শফিউল রকিব বারি ওরফে সৌরভ বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্রিকা কাটিং সহ গত ৭ জুলাই’২০২৫ ইং তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন দাখিল করেন।
অভিযোগ দাখিলের দেড় মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার টেবিলে ফাইলটি পড়ে রয়েছে। ফলে সচেতন মহল এই ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দি হয়ে ফাইল চাপা পড়ার আশঙ্কা করছেন বলে জানা গেছে।
প্রকাশ, সংশ্লিষ্ট ভুমি আইন মতে বন্টননামা দলিল বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র ব্যতীত অংশে অংশে ছাড়া এককভাবে কারো নামে নামজারি করে নেয়া যাবেনা। কিন্তু এসি ল্যান্ড আল ইয়াসা রহমান তাপাদারের সহযোগিতায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদাররা গোপনে বা রাতের আঁধারে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নামজারি করে আসছিল। অন লাইনে আবেদন করা নামজারিকৃত খতিয়ান গুলো যাচাই করলে দলের বিড়ালের ন্যায় অসংখ্য প্রমাণপত্র বেড়িয়ে আসবে।
এদিকে, এমনই একটি নামজারি করেন ২০২৪ ইং সালে তৎকালীন পলাশবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার মাহমাদুল হাসান ও তার অধিনস্ত কাজির বাজার তহশীল অফিসের তহশীলদার সুকুমার রাজবংশী। তারা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের একই গ্রামের মৃত নুরুজ্জামান সরকারের পরসম্পদ লোভী পুত্র ইমরান হোসেন মৌজা- মনোহারপুর, জেএল নং- ১৪৬, বিআরএস ৯৪৯ নং মোট ৯টি দাগ সম্বলিত খতিয়ান থেকে গোপনে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বন্টননামা দলিল ছাড়াই নিজের সুবিধা মত ৬২৫১, ৬২৬০ নং দাগ থেকে ২৭ শতাংশ জমি তার নিজ নামে নামজারি করে নেন।
উল্লেখিত নামজারির খতিয়ান নং ২১০৬, হোল্ডিং নং ২১০৭। যার আবেদন নং ৩৮১৪৮৯৩, আবেদনের তারিখ- ৬/৩/২০২৪ ইং এবং নামজারীর মামলা নং ২৪৯৯/২০২৩-২৪।
সুত্র জানায়, এই নামজারিটি বাতিলের জন্য তার আরেক ভাই আবেদন করলে কমপক্ষে সাড়ে তিন মাস পর্যন্ত ফাইলটি উল্লেখিত আওয়ামীলীগ নেতা নাজির কাম ক্যাশিয়ার শফিউল রকিব বারি গায়েব করে রাখেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবেদনকারি তার রিসিভ কপি থেকে পুনরায় আরেকটি আবেদন ফটোকপি করে দেয়। তখন বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ১১৭/২০২৪-২৫ মিসকেস লিপিবদ্ধ করে ফাইলটি রানিং করে।
ইতোপূর্বে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ পত্রিকায় গত ২৬ জুন’২০২৫ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়। এ খবর প্রকাশিত হলে অল্প দিনের ব্যবধানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া সার্টিফিকেট সহকারী শরিফ মিয়াকে বদলি করা হয়েছে। এই শরিফ মিয়ার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের মৃত মুনছুর আলীর পুত্র। তারা দুই ভাই।
শরিফের এক ভাই অটো চালক। শরিফ মৃত মুনছুর আলীর দুই স্ত্রীর মধ্যে বড় স্ত্রীর সন্তান। শরিফ এক সময় অভাবের তাড়নায় দিনমজুরী করতো। বর্তমানে সে ছোট দুর্গাপুর নানার বাড়িত থাকে। চাকরি পাওয়ার পর মজুর শরিফ মিয়া অল্প দিনের ব্যবধানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।
এদিকে, এসি ল্যান্ড মাহমাদুল হাসান অন্যত্র বদলী হলে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও ৩৮তম ব্যাচের বিসিএস ক্যাডার আল ইয়াসা রহমান তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১০ জুলাই’২০২৪ ইং তারিখে যোগদান করেন। পরের দিন ১১ জুলাই’২০২৪ ইং তারিখে পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন।
এছাড়াও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলি হয়ে আসেন আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা বন্ধন রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর পরিচালক, জয়বাংলা সংস্থার সভাপতি ও নাজির কাম ক্যাশিয়য়ার এ এস এম শফিউল রকিব বারি ওরফে সৌরভ। তিনি সেখানে সরকারি চাকরির পাশাপাশি তার ডাকনাম সৌরভ পরিচয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন।
এ সময় তিনি জয়বাংলা সংস্থা নামে একটি এনজিও ঢাকঢোল পিটিয়ে পরিচালনা করেন। কিন্তু ফেসিষ্ট আওয়ামীলীগের পতনের পর রাতারাতি উল্লেখিত এনজিওটির অফিসের কার্যক্রম গুটিয়ে নেন। এছাড়াও ২০১৮ সালে একটি নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় তিনি আওয়ামীলীগের দাপুটে লিডার হওয়ায়এ যাত্রা থেকেও রক্ষা পান। যা যাচাই-বাছাই করে বিস্তারিত বিবরণ আগামীতে প্রকাশ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সুত্র জানায়, এ এস এম শফিউল রকিব বারি সরকারি চাকরির পাশাপাশি তার ডাক নাম সৌরভ দিয়ে নিজ এলাকায় বন্ধন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা করছেন। এই শফিউল রকিব বারি ও সৌরভ একই ব্যক্তি। তিনি সুন্দরগঞ্জ এসি ল্যান্ড অফিসে চাকরি করা কালীন আওয়ামীলীগের দাপট খাটিয়ে একদিনে বেশ কয়েক দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন অথবা কোনদিন অফিসে আসলেও ১২/১ টার পর এসে হাজিরা দিয়েই চলে যেতেন।
কিন্তু অফিস ফাঁকির তথ্যটি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলেও তার দাপটের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেকটা অসহায় বোধ করতেন বলে নির্ভরশীল সুত্র জানায়। তবে তাকে গত ৯ জুন’ ২০২৪ইং তারিখে পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে বদলী করা হয়। এখানেও তার দাপট ও অফিস ফাঁকির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট।
তার বিরুদ্ধে নির্ভরশীল একটি সুত্র জানায়, সকালে তিনি মোবাইল করে খোঁজ নেন এসি ল্যান্ড আজ অফিসে আসবেন কিনা বা কখন বসবেন? সুযোগ পেলেই অযুহাত খুঁজে অফিস ফাঁকি তার নিত্যদিনের রুটিন হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী সহ এলাকার সচেতন জনগণ মতামত ব্যক্ত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাইবান্ধা জেলার সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সে তবু পলাশবাড়ীতে মাঝে মধ্যে বা দুপুর ১২/১ টার পর অফিসে উপস্থিত হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় সুন্দরগঞ্জে তো অফিসই করতো না! বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে, সরকারি চাকরি বিধি অনুসারে একসাথে একই ব্যক্তি সরকারি চাকরি ও এক বা একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবেন না। কিন্তু শফিউল রকিব বারি নিজ এলাকায় বন্ধন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ও জয়বাংলা সংস্থা পরিচালনা করছেন। তাকে প্রায় দিনই উক্ত স্কুল এন্ড কলেজে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় বলে নির্ভরশীল সুত্র জানায়।
সুত্রটি আরো জানায়, যারা আওয়ামী লীগের নেতা সহ এই সিন্ডিকেট সদস্যদের সাথে যোগাযোগ না করে নামজারি সহ বিভিন্ন সেবা পেতে আবেদন করবেন, তারা কোন না কোন অযুহাতে হয়রানির শিকার হবেই! ফলে শত শত নামজারির আবেদন বা বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তির আবেদন মাসের পর মাস পড়ে থাকলেও রহস্যজনক কারণে সেই আবেদন বা ফাইল গুলোর কোনো অগ্রগামী হচ্ছে না!
অথচ অফিসের অফডে সহ মাত্র ১০/১২ দিন বা ১৭/১৮ দিনে উৎকোচের বিনিময়ে ঘরে বসে থেকেও অনেকেই উল্লেখিত এসি ল্যান্ড অফিসের বিভিন্ন ধরনের সেবা পাচ্ছে! এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে, কাজিরবাজার তহশীল অফিসের তহশীলদার সুকুমার রাজবংশীর বিরুদ্ধে রয়েছে হাজারো অভিযোগ। তিনি বন্টননামা দলিল ছাড়া খতিয়ানে ৮/৯ টি বা একাধিক দাগ নাম্বার থাকলেও এবং ওয়ারিশ সনদ দাখিল করলেও সেই দিকে তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আবেদনকারীকে তার পছন্দ মত দাগে নামজারি করে দেয়ার একাধিক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের তথ্য সরেজমিনে যাচাই বাছাই অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে। তাই এলাকার সচেতন মহল দুর্নীতির দোসর কর্মকর্তা এসি ল্যান্ড আল ইয়াসা রহমান তাপাদার, শফিউল রকিব বারি, শরিফ মিয়া ও কাজিরবাজার ভুমি অফিসের তহশীলদার সুকুমার রাজবংশী সহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা সহ শাস্তিমুলক বদলীর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এমএম