এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু ঘটনার ৩দিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। এতে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিন ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে মরহুম ছমস উদ্দিনের দানকৃত ৩৩ শতাংশ জমির উপর জুমা জলছত্তর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর বর্তমান সরকার সারাদেশের রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি করণের উদ্যোগ নিলে বিদ্যালয়টি সরকারি হয়। বিদ্যালয়টি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু এতোদিন যে বিদ্যালয় মাঠ উত্তর-দক্ষিণে ছিল হঠাৎ করে সেই দিক পরিবর্তন করে পূর্ব-পশ্চিম দিকে বিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। হঠাৎ এই পরিবর্তনের কারণ আগে থেকেই বিদ্যালয়ের দখলে থাকা উত্তর-দক্ষিণ মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে বেশকিছু মেহগনি গাছ ছিল। এরমধ্যে ৫ টি বড় বড় মেহগনি গাছ শ্রমিক লাগিয়ে কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা দেন স্থানীয়রা। তখনি সেই জায়গা বিদ্যালয়ের নয় বলে দাবি করেন অভিযুক্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ওহাব আলীসহ অনেকে বলেন, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে কমিটির লোকজন সবাই প্রধান শিক্ষকের পরিবারের লোক। সভাপতি আব্দুল কাঈয়ুম প্রধান শিক্ষকের আপন ভাই, আরেক ভাই বরজাহান মিয়া
সহকারী শিক্ষক। এভাবে বিদ্যালয়টি পরিবার কেন্দ্রীক করে একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছে। এতোদিন যে মাঠ স্কুল ভোগ করেছে। ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করেছে এখন শুনছি সেই জায়গা তাদের ব্যক্তিগত। তাহলে সরকারি করার সময় জমির স্কেচম্যাপ কি দিয়েছে। এখানে সরকারিভাবে ভবন কিভাবে হলো। আমরা স্থানীয়রা বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব রক্ষা করাসহ সবকিছু নিয়মের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে ইউনএও ও শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে জুমা জলছত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, গাছগুলো আমাদের জমিতে। বিদ্যালয়ের গাছ কাটা হয়নি। স্কুলের জমিদাতা আমার বাবা। তিনি জমি দান করার সময় দিক উল্লেখ করে স্কুলে জমি দেননি। স্কুলের পাশে আমাদের জমি থাকায় আমরা স্কুলের সুবিধার্থে এখন জায়গা নির্ধারণ করে দিচ্ছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকতারুল ইসলাম বলেন এ বিষয়ে একটা অভিযোগ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গাছ সরাতে নিষেধ করা হয়েছে। আগে স্কুলের জায়গা নির্ধারণ হবে। তারপর গাছগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রকিবুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষক জায়গাটা নিজেদের বলে জানিয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসতে বলা হয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনএইচ





