রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে খুলনা জেলা জামায়াতের উদ্যোগে সাত দফা দাবি আদায়ে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ফুলতলা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে পিকনিকের সঙ্গে তুলনা করে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মন্তব্য কাণ্ডজ্ঞানহীন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, তারা জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। কিন্তু জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট সরকারের এ ধরনের আচরণের বিরোধিতা করছে। তাঁর দাবি, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই কালক্ষেপণ না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণ সরকারকে ক্ষমা করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে সংবিধান নিয়ে বক্তব্য দিলেও তাঁর মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। অথচ প্রতিদিনই হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

খুলনার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সেখানে হত্যা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁদের সাত দফা দাবি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। জনগণ সংবিধানের সংশোধন নয়, সংস্কার চায়। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানান তিনি।

গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও সারের সংকট নিরসনের ওপরও গুরুত্ব দেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শারদীয় দুর্গাপূজা যেন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে জন্য জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুন্সী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্যাহ এমপি এবং জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন।

লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মিয়া গোলাম কুদ্দুসের পরিচালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদি, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, অধ্যাপক মহিউল ইসলাম, জেলা শিবির সভাপতি মুহাম্মদ মমিনুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল আলিম, সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, মাওলানা আবুল হাসান, গাজী সাইফুল্লাহ, গাজী মোর্শেদ মামুন, মাওলানা সাইফুল হাসান, আব্দুর রশিদ বিশ্বাস, আফজাল হোসেন, মাওলানা মুশফিকুর রহমান ও শেখ আলাউদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এস