রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া কয়েক শ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে এবার বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন যুক্ত হয়েছে। এতে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার দুপুরের আগেই দেশটির প্রায় ১১০টি স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে প্যারিস, লিওঁ, নঁত ও রেনসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইতোমধ্যে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত হয়েছে।
প্রায় এক দশক আগে ফ্রান্সে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে আলোচনায় এসেছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেও এবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইসহ কয়েকটি শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মার্সেইতে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে প্রবেশ করেন এবং ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক মারিয়ানের একটি আবক্ষ মূর্তি ভেঙে ফেলেন। পরে পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের অনেকের পরনে ছিল কালো পোশাক, মুখোশ ও চোখের সুরক্ষাচশমা।
অন্যদিকে, প্যারিসে হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেন। তবে কেন্দ্রীয় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে কয়েক শ বিক্ষোভকারীর সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স সরকার ব্যয় সংকোচনমূলক বাজেট পাসের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি যৌক্তিক হলেও নগর এলাকায় সহিংসতার নিন্দা জানায় তারা। বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য বামপন্থী রাজনৈতিক দল ফ্রান্স আনবোডকে দায়ী করেছে সরকার। তবে দলটি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন বৃহত্তর সামাজিক বিক্ষোভে রূপ নেওয়ায় দেশটির সরকার এখন অর্থনৈতিক দাবি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে রয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও আনাদোলু এজেন্সি
এস
















