নিহতরা হলেন ৬২ বছর বয়সী শুমারি খাতুন এবং তার দেড় বছর বয়সী নাতনি আদিবা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শুমারি খাতুন তার কোলে নাতনি আদিবাকে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে যান। এ সময় হঠাৎ একদল ভীমরুল তাদের ওপর আক্রমণ করে। ভীমরুলের একের পর এক কামড়ে নানি ও নাতনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দেড় বছর বয়সী শিশু আদিবাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে শুমারি খাতুনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক ছিল। তার অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুমারি খাতুনের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতদের নিকটাত্মীয় সামিউল মুশফিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাদিহাটি পশ্চিমপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ ভীমরুলের আক্রমণে এত অল্প সময়ের মধ্যে নানি ও শিশুটিকে হারানোর ঘটনায় পরিবারটি গভীরভাবে শোকাহত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুরপাড়সহ ঝোপঝাড় ও গাছপালার আশপাশে ভীমরুলের বাসা থাকলে সেখান দিয়ে চলাচলের সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের এসব এলাকায় একা না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ভীমরুলের কামড়ে গুরুতর আহত হলে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি। এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ভীমরুলের উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমএম