সম্প্রতি এক ঝুট ব্যবসায়ীকে থানা হাজতে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠায় আবারও আলোচনায় মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান।
হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
মিরপুর থানার এসআই রাকিব বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টায় এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে পুলিশ হেফাজতে থাকা সুজন হত্যার দায়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়। এরআগে এসআই জাহিদকে বুধবার ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পরে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয় তাকে। এসব ঘটনার পর জাহিদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের বিগত কয়েক মাসে নির্যাতন ও গুলি করে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ এ সব অভিযোগ বরাবরের মতো অস্বীকার করেছে।
সর্বশেষ মিরপুর থানায় কর্মরত অবস্থায় ১২ জুলাই (শনিবার) রাতে তার হেফাজতে মাহবুবুর রহমান সুজন নামে এক ঝুট ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে নির্যাতনের প্রমাণ থাকলেও পুলিশ বলছে শ্বাস কষ্টে মারা গেছে সুজন।
এরআগে এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানা এলাকায় কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বিহারি জাবেদকে ২৪ জানুয়ারি গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
এরপর গত ৯ ফেব্রুয়ারি মিল্লাত ক্যাম্পের বিহারি জনীকে থানা হাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এসব অভিযোগের বাইরে মিরপুর কালশীর কুর্মিটোলা ক্যাম্পে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও এসআই জাহিদ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় এসআই জাহিদ ক্যাম্পের সামনে ছিল। এসময় তার মিরপুর থানায় থাকার কথা থাকলেও পল্লবী থানায় দায়িত্ব পালন করেছে বলে দাবি ভুক্তেভোগী কুর্মিটোলা ক্যাম্পবাসীর।
নওশের নামে এক বিহারীর দাবি,জাহিদ ২ বিহারিকে হত্যা করেছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি থানায় মামলাও নেওয়া হয়নি।
এব্যাপারে মিরপুর জোন পুলিশের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সুজন নিহতের ঘটনায় এসআই জাহিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ওঠে আসায় প্রাথমিকভাবে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপর হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এর আগে জনী মারা যাওয়ার সময়ও জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সে ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু মেডিকেল রিপোর্টে জনী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে বলে উল্লেখ করায় ছাড় পেয়ে যায় সে।
মাহবুবুর রহমান সুজনের মৃত্যু প্রসঙ্গে মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সুজনের উভয় হাতে কালো দাগ রয়েছে। দুই পায়ের গোড়ালির ওপর কালো দাগ পাওয়া গেছে। পিঠে ও মাথার পেছনে কালো দাগ রয়েছে।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, শ্বাসকষ্টে নয়, থানায় নিয়ে মারধরের কারণে মৃত্যু হয়েছে সুজনের।
সুজনের মা শাহিদা আক্তারের দাবি, সুজনের সঙ্গে তার স্ত্রীকেও থানায় নিয়ে আলাদা কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে স্বামীর মৃত্যুর খবর স্ত্রীকে জানানো হয়।
সুজনের মা বলেন, এসআই জাহিদ চাঁদা চেয়েছিল। প্রথমে এক লাখ টাকা নেওয়ার পরও গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০-১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েছে। চাঁদার টাকা না দেয়ায় আক্রোশে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঢাকা, জেইউ, ২০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)এসআর





