বুধবার ভোরে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় একটি গোপন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলো পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উজ্জ্বল ওই পাশবিক ঘটনার সঙ্গে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা নিঃসংকোচে স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি ও তার অন্যান্য সহযোগীরা মিলে ওই নারীর মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এই ন্যক্কারজনক অপরাধ সংঘটিত করেন। আসামির দেওয়া তথ্যগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করে ঘটনার আরও বিস্তারিত ও পেছনের কারণ জানার চেষ্টা করছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
তদন্তের অগ্রগতি ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই ঘৃণ্য ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ অন্য আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:
ফুটেজ বিশ্লেষণ: ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাই: গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আসামিদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার: আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর সাথে এমন পাশবিক ও অমানবিক আচরণ চরম বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক। এই ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্ত করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই অপরাধী চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আদালতের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।"
উল্লেখ্য, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সম্প্রতি রাতের আঁধারে ওই নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুততার সাথে তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে।
এমএম