রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলার উপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেবনাথের যৌথ বেঞ্চ রোববার এই স্থিতাবস্থা জারি করেন। একইসঙ্গে ইতোপূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশের পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যাখা জানতে চেয়েছেন আদালত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি)ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন বাবুল ও অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এছাড়া ডিএনসিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শাহাজাদা আল আমিন কবির।
গত বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) মোনায়েম খানের বাড়ি ‘বাগ-ই মোনায়েম’- এর একাংশ উচ্ছেদ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ওই বাড়িটি সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল এমন অভিযোগে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে বাড়িটিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় বুলডোজার দিয়ে বাড়িটির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
ওই বাড়ির বর্তমান উত্তরসূরিরা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ফলে মূল সড়ক থেকে ১৬ ফুট ভেতরে ১০ কাঠা জমির ওপর গড়ে তোলা বাড়িটির অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয় বলে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য।
উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক রোববার সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী অন্যতম কুচক্রি মোনায়েম খান যদি জায়গাটি দখলে নিয়ে থাকেন তবে তার সব সম্পত্তি বাতিল করা উচিৎ। আজ আমরা এই জায়গা দখলমুক্ত করলাম। এখানে গাড়ি পার্কিং, ফুটপথ করা যেতে পারে। এছাড়া গাছপালা বা বসার জায়গাও করা যেতে পারে।’
ঢাকার বনানীর এই বাড়িতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী মোনায়েম খান ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর মুক্তিবাহিনীর গুলিতে আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জারিফ





