ইউএনও সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, হাওর অঞ্চলের মধ্যে আমার তিন থানা—অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে দেশের সরকার ও প্রশাসন কৃষকদের পাশে রয়েছে। কোনো প্রকৃত কৃষক যেন বঞ্চিত না হন, পর্যায়ক্রমে সবার জন্যই ব্যবস্থা করা হবে।
তালিকার অসঙ্গতি প্রসঙ্গে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, কৃষক ছাড়া অন্য কেউ যদি জালিয়াতি করে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তবে যে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাকেও চিহ্নিত করে দ্বিগুণ জরিমানা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু। উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনু মিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেদ, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মুক্তার মিয়া এবং ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনিক রায়সহ ইউপি সদস্যবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
তবে এই সহায়তা কার্যক্রমে তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক বলেন, তালিকায় চরম স্বজনপ্রীতি হয়েছে। কোনো কোনো ওয়ার্ডে প্রকৃত কৃষক বাদ পড়েছেন, আবার অনেক ওয়ার্ডে একান্নবর্তী পরিবারের বাবা-ছেলের নামও তালিকায় দেখা যাচ্ছে। এমনকি যারা ঢাকা বা সিলেটে ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারাও এ তালিকায় এসেছে। কখনো চাষাবাদে সাথে যুক্ত ছিলেন না এমন লোকও তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
তালিকা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, হাওরাঞ্চলের প্রতিটি সেচ প্রকল্পের (স্কিম) ম্যানেজারদের কাছে প্রকৃত গৃহস্থের (কৃষকের) একটি করে সঠিক তালিকা থাকে। কোন কৃষক কতটুকু জমি চাষ করেছেন এবং কারা বর্গাচাষি, তার সকল নির্ভুল হিসাব তাদের কাছে রয়েছে। সেই তালিকা ধরে যদি ক্ষতিগ্রস্তদের নাম প্রস্তুত করা হতো তবে এই ধরনের অভিযোগের কোনো সুযোগ থাকত না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ১৫ কেজি চাল ও তিন হাজার করে নগদ টাকা দেওয়া হবে। সদর ইউনিয়নে সর্বমোট ৭৭৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এমএম