উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করতে বেশকিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়।
তবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। সংস্থাটির সূচক বলছে, লক্ষ্য অর্জনে একেবারেই নিচের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ। ১২২ দেশের মধ্যে অবস্থান ১১০। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২০ দেশের মধ্যে ১৯। আর দুয়ের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর মাইনাস শূন্য দশমিক ৭৮২।
ডব্লিউইএফ প্রকাশিত ‘দ্য হিউম্যান ক্যাপিটাল রিপোর্ট’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত জুনে প্রথমবারের মতো প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
চারটি স্তম্ভের ভিত্তিতে সূচকটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হল- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, কর্মক্ষম জনশক্তি ও কর্মসংস্থান এবং কর্মোপযোগী পরিবেশ। প্রতি স্তম্ভেই অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দক্ষ মানবসম্পদ সূচকের শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির স্কোর দুয়ের মধ্যে ১ দশমিক ৪৬। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে ১ দশমিক ৪১ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ফিনল্যান্ড, ১ দশমিক ২৩ স্কোরে তৃতীয় সিঙ্গাপুর, ১ দশমিক ১৬ স্কোরে চতুর্থ নেদ্যারল্যান্ডস এবং ১ দশমিক ১১ স্কোরে পঞ্চম স্থানে রয়েছে সুইডেন।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলংকা। দশমিক শূন্য ২ স্কোর নিয়ে দেশটি ৫০তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া ভারতের অবস্থান ৭৮, ভুটান ৮৮ ও পাকিস্তান ১১২। এ তিন দেশের স্কোরই ঋণাত্মক।
সূচকের ভিত্তি শিক্ষা স্তম্ভটির ক্ষেত্রে তিনটি উপসূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো-শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার মান ও ভবিষ্যত্ কর্মক্ষম জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষার অবদান। এক্ষেত্রে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪। আর স্কোর দুয়ের মধ্যে মাইনাস শূন্য দশমিক ৯৬।
মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৮২ আর উচ্চশিক্ষায় ৯১। তবে শিক্ষা বিশেষত উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্য অনেক বেশি। এ কারণে ১০৫তম স্থানে বাংলাদেশ। এছাড়া স্কুলে ইন্টারনেট ব্যবহারে ১০৬, শিক্ষা ব্যবস্থার মানে ৮৩, প্রাথমিক স্কুলের গুণগত মানে ৯৭, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় ৯৫ এবং স্কুল ব্যবস্থাপনার মানে ৯১। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ঋণাত্মক।
স্বাস্থ্য ও সুস্থতা স্তম্ভের ক্ষেত্রে জনগণের শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও টিকে থাকার ক্ষমতা (সারভাইভেল) এবং স্বাস্থ্যসেবা-এ চারটি উপসূচক বিবেচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও সুস্থতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪। দুইয়ের মধ্যে স্কোর মাইনাস শূন্য দশমিক ৬১।
স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন উপাদানে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ দুর্বল। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্যতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮, স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানে ১০৩, স্বাস্থ্যসম্মত পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে ৯৫, অস্বাস্থ্যকর জীবনে ১০৮।
কর্মক্ষম জনশক্তি ও কর্মসংস্থান স্তম্ভের অধীনে তিনটি উপসূচক রয়েছে। এগুলো হল-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কর্মক্ষম জনশক্তির অংশগ্রহণ, প্রতিভা ও প্রশিক্ষণ। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্কোর মাইনাস শূন্য দশমিক ৫৪ আর অবস্থান ১০৩। কর্মক্ষম জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় বাধা প্রশিক্ষণের অভাব। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ও ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণে ১১৬তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
অবকাঠামোগত অবস্থা, বিভিন্ন খাত ও শিল্পের মধ্যে সমন্বয়, আইনগত পরিবেশ এবং সামাজিক গতিশীলতা-এ চারটি উপসূচকের ভিত্তিতে কর্মোপযোগী পরিবেশ স্তম্ভটি দাঁড়িয়ে আছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর মাইনাস ১ দশমিক শূন্য ২ আর অবস্থান ১১০।
অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ও সেলফোন ব্যবহারের হার এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার চিত্র খুবই খারাপ। এ তিনটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যথাক্রমে ১১২, ১০৯ ও ১১১। এছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে সমন্বয় খুবই কম। সামাজিক নিরাপত্তা ও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ব্যবস্থায়ও পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ তিনটিতে অবস্থান যথাক্রমে ১১৬, ১১৮ ও ১০৯।
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





