দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ছাড়া সব খাতেই দরপতন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সূচক ও লেনদেনে ছিল মন্দাভাব।
স্বল্প মূলধনিসহ বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারের দর অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ায় মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা গেছে। এতে সূচক পয়েন্ট হারাচ্ছে।
অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় লেনদেন কমছে। দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই অবস্থা দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৭৬ পয়েন্ট। দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৫ শতাংশ। সিএসইতে সার্বিক সূচক কমেছে ২৫৮ পয়েন্ট। আর দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২২ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইতে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ছাড়া সব খাতের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের নতুন কোম্পানি এমারাল্ড অয়েলের তালিকাভুক্তির পর থেকে এ খাতের লেনদেন বেড়েছে।
এছাড়া অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মতো বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি পায়। এতে এ খাতের বাজার মূলধনও বাড়ে। খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য হারে বাজার মূলধন হারায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, সিমেন্ট ১ দশমিক ১৬, জীবন বীমা ৩ দশমিক শূন্য ৪, বিবিধ ২ দশমিক ২৯, ওষুধ ৩ দশমিক শূন্য ৫ ও টেলিযোগাযোগ খাত ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যতম ভূমিকা পালন করে। সে সময়ে সূচক বাড়াতে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো হয়। তবে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল হয়ে আসায় শেয়ারবাজার বিষয়ে সরকারের মনোযোগ কমে যায়।
ফলে সাময়িক চাঙ্গা হলেও সেটি আর বজায় থাকেনি। আর সে সময়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দরও বাড়ে, যা বর্তমানে সংশোধন হচ্ছে।
এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা ও অর্থ পাচার রোধ-সংক্রান্ত আইন কার্যকরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্পরতায় শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎপরতায় প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশই সাইডলাইনে চলে গেছেন। এতে ক্রেতা-সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী সময়ে কিছু শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে, যা এখন সংশোধন হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগের সুযোগ নেই। এছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সক্ষমতা শক্তিশালী অবস্থানে নেই; যা লেনদেনে প্রভাব ফেলছে।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবেস ডিএসইএক্স সূচক কমে ৪৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন ছিল ২৯৩ কোটি টাকা। পরের কার্যদিবস মঙ্গলবার সূচক কমে ৩৬ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ৩২২ কোটি টাকার। বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয় ৩৩৮ কোটি টাকা। এদিন সূচক কমে ৩৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট। আর টানা পতনের পর শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচক বাড়ে ৩৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। তবে লেনদেন কমে দাঁড়ায় ২৮৫ কোটি টাকা।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে ৩০১টি কোম্পানির ২২ কোটি ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯১৬টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ১ হাজার ২৩০ কোটি ৮৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫টির, কমেছে ২২৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১২টির।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭৬ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪৫৫৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৩৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ২৪৯টি কোম্পানির মোট ২ কোটি ৬২ লাখ ২০ হাজার ২৮৫টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ১১৯ কোটি ৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির আর কমেছে ১৮০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৫৮ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪০৯০ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক সিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৬৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১৮৩১ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে।
[b]ঢাকা, ২২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
পুঁজিবাজরে সপ্তাহজুড়ে মন্দাভাব
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ছাড়া সব খাতেই দরপতন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সূচক ও লেনদেনে ছিল মন্দাভাব।





