‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবিশ্বাস-সন্দেহের দেয়াল ভেঙে দিতে হবে। দু’দেশের জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। আমাদের সাথে কোনো দল বিশেষের নয়, রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক রয়েছে। সরকারের সাথে সরকারের সম্পর্ক রয়েছে। সেকারণে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুনমাত্রা যোগ করেছে।’

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ভারতীয় দূতাবাস আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত যোগাযোগ: সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মঈনুল ইসলাম।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকে ভেবে ছিলেন, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সোনিয়া গান্ধির কংগ্রেস সরকারের সু-সম্পর্ক থাকার কারণে বাংলাদেশে কিছু একটা হয়ে যাবে। তবে আমরা জানি, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পর্কের নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধ করতে দেয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। শেখ হাসিনার সরকার এ বিষয়ে বদ্ধপরিকর। এধরনের কোনো কর্মকাণ্ড যদি কোনো গোষ্ঠি করতে চায় সরকার তাদের কঠোরভাবে দমন করবে।’

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে ভারতের সরকারের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক পোক্ত হয়েছে। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সরকারের আমলে যেসব চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি, অমীমাংসিত ছিল এখন সেগুলো পূরণ হওয়ার পথে। তিস্তার পানি চুক্তি, অমীমাংসিত ছিট মহল চুক্তি, সীমান্ত বাণিজ্যসহ বিরোধপূর্ণ সব কিছু বাস্তবায়নের পথে। ইতোমধ্যে ভারতের সাথে কানেংক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য ফেনী, সিলেট ও যশোর সিমান্ত দিয়ে স্থলপথের অবকাটামোগত উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। আরো কিছু জায়াগায় কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটা চলতে থাকবে।’

‘বিশ্বায়নের যুগে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখার কোনো উপায় নেই’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সেকেলের চিন্তা ভাবনা নিয়ে বিশ্বায়নের এই যুগে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখার কোনো উপায় নেই। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। ভারতের সাথে চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ সম্পর্ক উন্নয়ন ও বাণিজ্য করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদেরও বসে থাকলে হবে না, আমাদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে হলে ভারতের সাথে সব ধরণের সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। বাণিজ্যের পরিমাণও বাড়াতে হবে।’

তবে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমতার ভিত্তিতে সব কিছু হওয়া উচিৎ মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদান অনস্বীকার্য তবে তাদের সাথে আমাদের সব ধরনের চুক্তি ও বাণিজ্য হবে সমতার ভিত্তিতে। তাদের কাছে আমাদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো কিছু করবে না শেখ হাসিনার সরকার।’

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বন্দর আসনের সাংসদ ও সাবেক চেম্বার সভাপতি এম এ লতিফ, ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিদারুল আলম এমপি, ড. আবু রেজা নদভী এমপি, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, সাবেক সাংসদ আলহাজ ইসহাক মিয়া ও মাজহারুল হক শাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চেম্বার পরিচালকদ মাহফুজুল হক শাহ, এম. এ. মোতালেব, ছৈয়দ ছগীর আহমেদ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মাহবুবুল হক চৌধুরী (বাবর), মো. জহুরুল আলম, মো. জাহাঙ্গীর, এম. এ. ছালাম ও মোরশেদ আরিফ চৌধুরীসহ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার ও হাই কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রুশ কনসাল জেনারেল ওলেগ পি. বয়কো, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেআই