ক্রমেই পতনের গহ্বরে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করছে না বাজার। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারও দেশের উভয় পুঁজিবাজারে মূল্য সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও কমেছে।
এদিকে ক্রমাগত দর পতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেছে বিনিয়োগকারীরা। দুপুর সোয়া ১টায় বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরীর নেতৃত্ব বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেতে আসেন। দীর্ঘ একমাস ধরে মন্দা এবং অধিকাংশ সময় দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা হাউজ ছেড়ে রাজপথে নামেন তারা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে প্রথমে বিক্ষোভ ও পরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ৩০/৪০ জন বিনিয়োগকারী এ প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশ নেন। তবে দুপুর দুইটার দিকে বিনিয়োগকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
বিনিয়োগকারীরা জানান, ক্রমাগত দর পতনের পেছনে যারা কলকাঠি নাড়ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বিএসইসিতে যারা কর্তব্যরত তাদের পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত।
বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে পুনরায় দর পতন শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বাজারের এ পরিণতির দায় এড়াতে পারেন না। আর বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি যে অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে এখন নীতি নির্ধারণী মহল এবং সরকার জোরালো পদক্ষেপ না নিলে বিনিয়োগকারীরা আবারো নিঃস্ব হয়ে যাবেন বলে মনে করছেন এই বিনিয়োগকারী নেতা।
এ সময় বিক্ষোভরত বিনিয়োগকারীরা নীতিনির্ধারণী মহলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। একই সাথে দরপতন ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানান।
এদিকে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসও সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। একই সঙ্গে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। টাকার পরিমাণে লেনদেন আগের কার্যদিবস থেকে সামান্য বেড়েছে। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন আজও ৩ শত কোটির ঘরে রয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সূচকের উত্থানে শুরু হয় লেনদেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্রড ইনডেক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪৪৬৬ পয়েন্টে। ডিএসইতে মোট ২৮৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৭টি, কমেছে ১৮৮টি আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ারের। টাকার পরিমাণে মোট লেনদেন হয়েছে ২৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ১০৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮৬৯৫ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট ২১১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ১৪৯টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টি কোম্পানির শেয়ারের। টাকার পরিমাণে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার।
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রড ইনডেক্স কমেছিল ৩৯ পয়েন্ট। এদিন মোট লেনদেন হয় ২৪৩ কোটি ৪২ লাখ টাকার।
[b]ঢাকা, ২৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]