বেসরকারী ৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকদের এটিএম কার্ডের তথ্য চুরি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার তদন্ত কমিটি সব ব্যাংকগুলো ও বুথ সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, গ্রাহকের কার্ডের তথ্য চুরি করে গ্রাহকের অর্থ চুরির বিষয়টির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি তথ্য যাচাই করে দেখবে তদন্ত কমিটি। কমিটির দেয়া তদন্ত রির্পোটের পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে। ইবিএল’র যেসব কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

অপর দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি তিনটি ব্যাংকই এটিএম কার্ড জালিয়াতির বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত শুরু করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্যাংকের উচ্চ পদস্থ এক কর্তা  বলেন, আমাদের ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি মিটিং হয়েছে রোববার দুপুরে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু এর সঙ্গে প্রযুক্তি জড়িত আছে, তাই নিজেদের ব্যাংকের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমও খতিয়ে দেখবে তারা।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বেসরকারী ৩টি ব্যাংকের এটিএম কার্ডের তথ্য জালিয়াতি করে এটিএম বুথ থেকে টাকা বের করে নেয় একটি জালিয়াত চক্র। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে চিঠিও দিয়েছে সকল ব্যাংককে।

এটিএম বুধ থেকে কার্ড জালিয়াতের মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে বেসরকারী খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক(ইউসিবি)। রাজধানী ঢাকার বনানী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ইউসিবির কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ মতে, ব্যাংকের এটিএম বুথের মধ্যে লুকানো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে এটিএম কার্ডের তথ্য জালিয়াত করে টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা প্রথম ধরতে পারেন ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের কার্ডধারী এক গ্রাহক। গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে ব্যাংকটির ২১জন গ্রাহক তাদের একাউন্ট থেকে অজ্ঞাতভাবে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইবিএলকে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

অন্যদিকে ইউসিবিএল ও দ্যা সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডধারী কিছু গ্রাহকের টাকাও জালিয়াত চক্র তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছে ব্যাংক দুটি।

এআই