বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, এসএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশ, ভবিষ্যৎ শিক্ষার পরিকল্পনা এবং পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি। ফলে এই পর্যায়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হতাশা, অনিশ্চয়তা ও শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তাদের অভিভাবকেরাও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই কোনো শিক্ষার্থীর মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ, নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করাও একটি দায়িত্বশীল শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা কোনো নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দাবি করছেন না। বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একটি মানবিক, বাস্তবসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের প্রথম দাবি, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন।

দ্বিতীয় দাবিতে তারা বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সিলেবাস, মানবণ্টন, প্রশ্নপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতাসংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা দ্রুত প্রকাশের আহ্বান জানান। এতে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করেন তারা।

তৃতীয় দাবিতে পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশের বিষয়ে গুরুত্ব দেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পান।

চতুর্থ দাবিতে বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

পঞ্চম দাবিতে তারা বিকল্প ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। কোনো অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব না হলে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের এক বছর পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি বাস্তবসম্মত সমাধানও বের করা যাবে। তাদের আন্দোলন কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ, শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলেন, একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা যেন অযথা থেমে না যায়। তাদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তাদের মূল দাবি, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে। তা সম্ভব না হলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এবং পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিকল্প সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এস