'এসএসসিতে ভাল ফলাফল করেছ এখন ভাল কলেজে ভর্তি হতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে বড় হওয়ার'। কথাগুলো অর্ণবকে বলছিলেন তারই একজন শুভাকাঙ্খী। নিশ্চুপ হয়ে কথাগুলো শুনছিলেন অর্ণব। এরইমধ্যে প্রশ্ন করেন ওই ভদ্রলোক- কোন কলেজে ভর্তি হবে তুমি? কোন উত্তর নেই।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে, যেখানে বাসা ভাড়া দিয়ে বাবার সংসার চালানই কষ্টসাধ্য সেখানে কিভাবে স্বপ্ন দেখবো ভাল কলেজে ভর্তি হবার। কিছুক্ষণ পর, আমি স্বপ্ন দেখি বুয়েট পড়াশোনা করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু পারবো কি না জানি না আবেগী কণ্ঠে বলছিলেন অর্ণব।
সাংসারিক অভাব অনটনের মধ্যেও অর্ণব এবার এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে অর্ণব বড়। বাবা নেপাল দেবনাথ অন্যের কাপড়ের দোকানে কাজ করেন, মা নির্মলা গৃহিণী।
সাবাই মিলে থাকেন এলেঙ্গার একটি ভাড়া বাসায়। অভাব অনটন কখনই বাধাগ্রস্থ করতে পারেনি অর্ণবের ভাল ফলাফলে। এর আগেও সে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ও জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।
বাবা নেপাল দেবনাথ জানান, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাসা ভাড়া দিয়ে থেকে সংসার চালানই কষ্টসাধ্য। কিভাবে ছেলেকে ভাল কলেজে ভর্তি করাব কিছইু বুঝে উঠছি না।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম বলেন, অর্ণব বাংলাদেশের যেকোন ভাল কলেজে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখে। তার পড়ালেখা যাতে বন্ধ না হয়।সে যেন ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারে এজন্যে তিনি সমাজের ভিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এআর





