সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩০৬ নম্বর কক্ষের দরজার একপাশে সোনালী রঙের পোমেল বড়ুয়ার নামফলক সাঁটানো, লালগালিচায় টাকা পুরো কক্ষ, বসানো দামী সোফা, জানালায় রঙ-বেরঙের পর্দা টানিয়ে রেখেছেন। যেন বিলাস বহুল রাজকীয় বেপার-সেপার!
রুমটিতে ৮ জনের সিট নির্ধারিত থাকলেও একাই থাকছেন তিনি। হল প্রশাসন থেকে দেওয়া ৬ টি বেড ও ৬ টি টেবিলের পরিবর্তে সেখানে মাত্র একটি টেবিল ও একটি বেড রয়েছে।
#তীব্র আবাসন সংকট
#নামে মাত্র হল প্রভোস্ট, ছাত্রলীগ সভাপতিই সর্বেসর্বা
#লাল গালিচায় ঢাকা পুরো কক্ষ
হল সূত্রে জানা যায়, মাস্টার্স পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হলে আবাসিক শিক্ষার্থীর সিট বাতিল হয়ে যায়। ওই রুমে তিনজন শিক্ষার্থীর নামে সিট বরাদ্দ থাকলেও তার মধ্যে দুই জনের মাস্টার্স শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগেই। কিন্তু পোমেল বড়ুয়ার নামে কোনো সিট বরাদ্দ নেই। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে নিজের ইচ্ছেমত করে রুম বন্টন করেন তিনি। নামেমাত্র হল প্রভোস্ট।
হল সূত্রে আরও জানায়, কোন শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে হলের কক্ষে ডেকোরেশন করতে পারেনা। কিন্তু বর্তমান কমিটি গঠনের পর থেকেই তিনি এভাবে থাকছেন।
এ বিষয়ে পোমেল বড়ুয়া বলেন, 'নৈতিকভাবে বলতে গেলে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরেও হলে থাকা ঠিক না। তবে ছাত্ররাজনীতির কিছু দায়িত্বের জায়গা থেকে আছি।'
রুম ডেকেরেশনের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমরা সাতজন রুমমেট মিলে রুমটা ডেকেরেশন করেছি। আমরা ৫ জন বর্তমান এই রুমে থাকি। রাজনীতি করি বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীরা রুমে আসেন তাই একটু রুমটা পরিপাটি করে রেখেছি।'
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রভোস্ট ড. বিজন মোহন চাকী বলেন, 'আমাদের আবাসন সংকট রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারেনা তারা বাইরে মেসে থাকেন। পড়াশোনা শেষ হলেই হল ছাড়তে হবে। এমন নিজের ইচ্ছেমতো রুম ডেকেরেশন করা ঠিক না। এই সংকট কাটিয়ে তোলার জন্য কাজ চলছে। আশা করি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।
জানা গেছে, এর আগে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রুম ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন। তবে দৈনিক কালের কণ্ঠে নিউজ হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু দিন পর আবার তারা রুম ভাগাভাগি করে নেয়।
এনএইচ





