শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে তারা নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অংশ নেন।
চুয়েটের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পৃথক দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকেও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেন, সাবেক উপাচার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছিলেন। নতুন উপাচার্য তাদের আন্দোলনকে ৩০-৩৫ জনের কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করায় শিক্ষার্থীরা তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছেন বলেও জানান তিনি।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, নতুন উপাচার্যের যোগদানের প্রতিবাদেই বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষকরা পূর্ণ কর্মবিরতিতে রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরাও অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত উপাচার্য অনলাইনে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়। শুক্রবার রাতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি শান্ত হলে দ্রুত ক্যাম্পাসে গিয়ে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবারও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
এস





