রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রবীন্দ্র ভবনের দুইতলায় ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালে চলছে কক্ষ সংস্কারের কাজ। এতে বেশ কয়েকদিন ধরেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ভবনের বেশ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের। সংস্কার কাজ থেকে সৃষ্ট উচ্চ আওয়াজে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষার মনোযোগ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১২ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের দুই তলায় আইন বিভাগের শিক্ষকদের ( ২৩০, ২৩১, ২৩২ নং কক্ষ ) কক্ষে টাইলস্ বসানোর কাজ চলছে। ফলে টাইলস্ কাটার সময় এখান থেকে তীব্র আওয়াজ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ক্লাস-পরীক্ষার মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, রবিবার যখন বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছিলাম তখন দুই তলায় সৃষ্টি হওয়া উচ্চাওয়াজে প্রায়ই পরীক্ষার মনোযোগ হারিয়ে ফেলি। এতে করে পরীক্ষা দিতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, বিভাগের সংস্কারের কাজ যদি করতেই হয় তবে ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালীন করা উচিৎ নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার আহব্বান জানান তিনি।
এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্লাস চলাকালে এই কর্কশ শব্দের কারণে শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে ক্লাস করতে হচ্ছে। কিন্তু দরজা-জানালা বন্ধ করায় তীব্র গরমে তা আবার আরেক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালে এই কাজ বন্ধ রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এম আহসান কবির বলেন, আমরা গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু আমরা কাজ শেষ করতে পারিনি। সংস্কারের উচ্চাওয়াজে ক্লাস-পরীক্ষার সমস্যা হচ্ছে এ কথা জানালে তিনি এর উত্তরে বলেন ‘তো, এই সময়ে কাজ না করলে কখন কাজ করবে?’
এদিকে, একই ভবনের নিচতলায় ক্লাসের সামনে দিয়ে কেউ কেউ মোটরবাইক ও সাইকেল চালাচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, যখন ক্লাসে থাকি তখন বারান্দায় কেউ সাইকেল বা মোটারবাইক চালালে আমাদের ক্লাসে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রবীন্দ্র ভবনের শিক্ষার্থীদের সাইকেল-মোটরবাইক রাখতে একটু সমস্যা হয়। কারণ এই ভবনের জন্য আলাদা কোনো গ্যারেজ নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা এইসব যানবহন নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে। রবীন্দ্র ভবনের সামনে একটা গ্যারেজ নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।’
আইন বিভাগের সংস্কার কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভাগের এইসব কাজগুলো যখন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে তখন করা উচিৎ। তা না হলে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হতে পারে।
এমকে





