দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ ও সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগে মোট ৮৬৮ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮২৫ জন স্থানীয় মালয়েশিয়ান এবং ৪৩ জন বিদেশি নিয়োগকর্তা রয়েছেন।

তিনি বলেন, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিদেশি শ্রমিকদের উপস্থিতির পেছনে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের ভূমিকা রয়েছে।

জাকারিয়া বলেন, সাধারণ মানুষ যখন দেখে অনেক বিদেশি অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন বা কাজ করছেন, তখন তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব বিদেশিকে স্থানীয় নিয়োগকর্তারাই চাকরি দেন, সুরক্ষা দেন এবং কাজ করার সুযোগ করে দেন।

তিনি আরও বলেন, এ কারণে আমরা আর কোনো আপস করবো না। আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযুক্ত নিয়োগকর্তাদের প্রায় ৯৫ শতাংশই স্থানীয় নাগরিক। যারা বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা অনুমোদিত পাস ছাড়া বিদেশিদের নিয়োগ দেবেন কিংবা আশ্রয় দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৭ জুন) মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘কোর্স আসাস ও সিজিল টিঙ্গি কেইমিগ্রেসেনান’ সিরিজ-১, ২০২৬-এর প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব ড. আওয়াং আলিক জেমানও উপস্থিত ছিলেন।

জাকারিয়া জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫ হাজার ৪৩০টি ইমিগ্রেশন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৬ হাজার ৬৮১ জন বিদেশি নাগরিককে যাচাই-বাছাই করা হয়।

অভিযানের ফলাফল সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩৩ হাজার ১৪৫ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ অভিবাসন ও শ্রমবাজারে অনিয়ম রোধে অভিযান আরও জোরদার করবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এমএম