জুলহাজ মান্নানের খুনিদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন।
জুলহাজ হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশের জন্য কেরিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে খুনিদের ধরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। টেলিফোন কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুই খুনিকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে কেরিকে অনুরোধ জানান।
গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব নূর এলাহি মিনা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাত ৯টা ৪ মিনিট থেকে ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। কুশল বিনিময়ের পর জন কেরি সম্প্রতি কলাবাগানে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন জুলহাজ মান্নানলন আমাদের সহকর্মী।’
জন কেরিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। এ ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পরিশ্রম করছে। কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। আমরা আশা করি, অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডকে আমরা ঘৃণা করি। কলাবাগানে যে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে তাঁদের একজন আমার সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার পরিবারের সকল সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার। আজ (গতকাল) শেখ জামালের জন্মদিন। আমার এই ছোট ভাইকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সাথে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।’ শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুজন হত্যাকারী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাউন্টার টেররিজম (সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা) বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় ইতিপূর্বে এফবিআই বাংলাদেশে এসেছে। আমি আশা করি, কাউন্টার টেররিজম-বিষয়ক সহযোগিতার ক্ষেত্র অব্যাহত থাকবে। কোনো তথ্য পেলে তা শেয়ার করা হবে।’
এ পর্যায়ে জন কেরি বলেন, কাউন্টার টেররিজম-সংক্রান্ত সহযোগিতা আরো এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে তিনি বাংলাদেশে পাঠাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে যারা প্রকাশ্যে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তারাই এই হত্যাকারীদের মদদ জোগাচ্ছে। হত্যাকারীরা হত্যার ক্ষেত্রে সফট-টার্গেটে আগাচ্ছে। তারা ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রিদের টার্গেট করছে। এর সবগুলোই ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।’
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের আটজনকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানান। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি দম্পতি হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য জন কেরির প্রতি অনুরোধে জানান তিনি।
এমবি





