যুক্তরাষ্ট্রের অরলান্ডোর নৈশক্লাবে হামলাকারী ওমর মতিনের বাবা সিদ্দিক মতিন আফগান তালেবানের সমর্থক। এমনকি তিনি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ারও চেষ্টা করেছেন।
সিদ্দিক মতিন দুরান্দ জিরগা নামে একটি টেলিভিশন শোতে অংশ নিতেন। এটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রচারিত পায়াম-ই-আফগান চ্যানেলে দেখানো হতো।

দুরান্দ জিরগা অনুষ্ঠানে সিদ্দিক মতিন দারি ভাষায় বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করতেন। ওই অনুষ্ঠানের অনেক ভিডিও সিদ্দিক মতিন নামের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা হয়েছে। দুরান্দ জিরগা অনুষ্ঠানে একটি ফোন নম্বর এবং পোস্ট বক্সের ঠিকানা দেখানো হতো। ওই ঠিকানা ও নম্বর মতিনদের ফ্লোরিডার বাড়ির। এ ছাড়া দুরান্দ জিরগা নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানও আছে সিদ্দিক মতিনের। প্রতিষ্ঠানটি ফ্লোরিডার পোর্ট লুসিয়ার ঠিকানায় নিবন্ধিত।

দুরান্দ জিরগার এক ভিডিওতে তালেবানের প্রতি সমর্থন এবং পাকিস্তান সরকারের নিন্দা জানান সিদ্দিক মতিন। তিনি বলেন, ‘ওয়াজিরিস্তানে আমার ভাইয়েরা, আমাদের তালেবান আন্দোলনের যোদ্ধা ভাইয়েরা, জাতীয়তাবাদী আফগান তালেবানের উদয় হচ্ছে।’

অতি সম্প্রতি ইউটিউবের এক ভিডিওতে সিদ্দিক মতিন আফগান প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। তবে ভিডিওটি প্রকাশের সময়কাল অদ্ভুত। আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক বছর পর তিনি এই ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা বলেন সিদ্দিক মতিন।
আফগানিস্তানের তালেবানকে সমর্থন এবং আফগান প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিদ্দিক মতিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অরলান্ডো হামলার পর গতকাল রোববার সিদ্দিক মতিন বিবিসিকে বলেন, ‘এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’ হামলার কারণ হিসেবে সিদ্দিক মতিনের ভাষ্য হলো, সম্প্রতি মিয়ামি সমকামী দুই পুরুষকে প্রকাশ্যে চুমু খেতে দেখেন ওমর মতিন।ওই সময় তাঁর সন্তানও সঙ্গে ছিল। ওই ঘটনায় ক্রুদ্ধ হন মতিন।
সিদ্দিক মতিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পুরো ঘটনার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। তাঁর (ওমর মতিন) কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমরা সজাগ ছিলাম না। পুরো দেশের সঙ্গে আমরাও শোকাহত।’