ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে ট্রাস্ট ঘোষণা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আজ বুধবার লোকসভায় রাম মন্দির ট্রাস্ট গঠনের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এই ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই তৈরি হবে রাম মন্দির।

ট্রাস্টের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র’। রাম মন্দির তৈরি এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে ওই ট্রাস্ট।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের জন্য ট্রাস্ট গঠন করল কেন্দ্রীয় সরকার। আজ লোকসভা অধিবেশনে রাম মন্দির ট্রাস্ট গঠনের কথা ঘোষণা করে এর প্রতি সবাইকে সমর্থন জানানোর অনুরোধ জানান নরেন্দ্র মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাম মন্দির তৈরির জন্য ৬৭ একর জমি দেওয়া হয়েছে অযোধ্যায়।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিন মাসের মধ্যে অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির কাজ শুরু করতে হবে এবং কেন্দ্রের গঠিত ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে হবে মন্দির নির্মাণ। হাতে আর সময় নেই তাই তড়িঘড়ি ট্রাস্ট গঠনের কথা ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। কিন্তু ট্রাস্টে কারা থাকবেন, তা এখনো জানা যায়নি।

ট্রাস্টে কারা অংশীদার হবে, এ নিয়ে হিন্দু গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ট্রাস্টের সদস্য হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত নভেম্বরে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেন সুপ্রিম কোর্ট। তাতে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয় এবং মসজিদ তৈরির জন্য ৯০০ একর জমি পৃথকভাবে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন শীর্ষ আদালত। মসজিদের জন্য কোথায় জমি দেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে জানা গেছে, রাম মন্দির নির্মাণের কাজ রামনবমী, অর্থাৎ এপ্রিলের শুরুর দিকেই আরম্ভ হবে।

ভারতীয় পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ওঠে। অযোধ্যায় বিশালাকৃতি মন্দির তৈরির জন্য এদিন পার্লামেন্টে সবার সমর্থনের আর্জিও জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত ৯ নভেম্বর অবসরপ্রাপ্ত রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ ঐতিহাসিক রায়ে জানান, অযোধ্যার বিতর্কিত ২ দশমিক ৭৭ একর জমিতে রাম মন্দির তৈরি হবে। অন্যত্র মসজিদ তৈরি নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্য সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করবে রাজ্য সরকার। আর রাম মন্দির তৈরির জন্য তিন মাসের মধ্যে তৈরি করতে হবে একটি ট্রাস্ট, যা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে তৈরি হবে। রায়ে বলা হয়, তিন মাসের মেয়াদ সম্পন্ন হবে ৯ ফেব্রুয়ারি। এর কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এমআর