বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭০ ডলার বা ১ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৬৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৯৭ ডলার বা ৩ শতাংশ কমে ৯৬ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এরআগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করার পর দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ফের আলোচনার শুরুর সম্ভাবনায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল। তবে সংঘাত আবার শুরু হলে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক টমাস ভার্গা বলেছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার গুঞ্জন তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে, তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতাটি তেলের প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং ইরানের কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিঘ্ন ঘটেছে। এতে গত মার্চ মাসে দৈনিক ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে।

আইইএ বলেছে, ‘জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবাহ পুনরায় চালু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল এই সপ্তাহের শেষের দিকে আবারো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে। যদিও এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি বলে মঙ্গলবার নির্ভরযোগ্য পাঁচটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, তবে প্রতিনিধিদলগুলো শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত দিনগুলো মধ্যেই বিবেচনা করছে।’

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়কেই তাদের প্রতিনিধিদল পুনরায় পাঠানোর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে প্রথম সূত্রটি জানিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

এস