ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরায় ভারতের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির পোশাক পাল্টানোর দৃশ্য ধারণ করার ঘটনায় দেশটির পর্যটন রাজ্য উত্তর গোয়ার ফ্যাবইন্ডিয়া দোকানের চার কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, পুলিশ সুপার কার্তিক কশ্যপ জানান, আজ শনিবার ফ্যাবইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেফতার হওয়া চার কর্মীর ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
কালাঙ্গুতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এমএলএ মাইকেল লোবো মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির পক্ষ থেকে কালাঙ্গুত পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ডিএসপি নেলসন আলবাকুয়েরক জানান, মামলাটি ৩৫৪ সি ধারা (গুপ্তস্থান থেকে যৌনক্রিয়া দেখা) এবং ৫০৯ ধারায় (নারীর শালীনতা নষ্ট করা) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে পর্যটন রাজ্য উত্তর গোয়ার কালাঙ্গুত নামের ছোট শহরে ফ্যাবইন্ডিয়া নামের একটি দোকানে পোশাক কিনতে যান ভারতের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। সেখানে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। স্মৃতি ইরানি কয়েকটি পোশাক বেছে নিয়ে ট্রায়াল রুমে ঢোকেন। এরপর তাঁর নজরে পড়ে লুকানো ক্যামেরাটি। দ্রুত বের হয়ে এসে ইরানি সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে ডেকে পাঠান। প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ স্বামী জুবিন ইরানি দোকানের কর্মীদের ওপর চড়াও হন। পরে তাঁদের ভিডিওচিত্র দেখাতে বাধ্য করেন। এতে দেখা যায়, সত্যি সত্যিই মন্ত্রীর কাপড় পাল্টানোর দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল!
ফ্যাবইন্ডিয়ার ট্রায়াল রুমের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, সেটি এমনভাবে বসানো, যাতে করে যিনি পোশাক বদলাচ্ছেন তাঁর পেছন দেখা যায়। একইসঙ্গে আয়নায় তাঁর প্রতিচ্ছবিও ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ক্যামেরাটি ট্রায়াল রুমের বাইরে উঁচু দেওয়ালে স্থাপন করা হয়। ক্যামেরার লেন্স ছিল ট্রায়াল রুমের ঘুলঘুলির দিকে।
স্মৃতি ইরানি পুলিশকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, এটি খুব খারাপ কাজ। এটি সবখানে ঘটছে। এভাবে ছবি তুলে লোকেরা নারীদের নিন্দিত করতে চায়। পুলিশকে ওই বক্তব্য দেওয়ার পরেই স্মৃতি ইরানি দ্রুত দোকানটি থেকে হোটেলে ফিরে যান।
বিজেপি নেতা লোবো বলেন, এটি খুব নিন্দনীয়। এভাবে একজন ব্যক্তির গোপনীয়তাকে নষ্ট করা হয়।
তবে ফ্যাবইন্ডিয়ার কর্মকর্তারা পুলিশকে জানান, চুরি বন্ধের জন্য ক্যামেরাটি বসানো হয়েছে। চারটি পোশাক হাতে নিয়ে অনেকেই একটি লুকিয়ে রেখে তিনটি পোশাক হাতে ট্রায়ালঘর থেকে বের হন। গত সপ্তাহে রাশিয়ার এক পর্যটককে এ ঘটনায় হাতেনাতে ধরা হয়েছে। যখন কোনো জিনিস চুরি যায়, তখন কর্মীর বেতন থেকে তা কেটে নেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফ্যাবইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইলিয়াম বিসেল বলেন, দোকানের গুদামঘরে নিরাপত্তা-বিষয়ক ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু ট্রায়াল রুমে নেই। ট্রায়াল রুমে কী হচ্ছে, তা সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখার কোনো সুযোগ নেই।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও ব্যাঙ্গালুরুতে নিযুক্ত বিজেপির নির্বাহী লক্ষ্মীকান্ত পরেশকার বলেন, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএইচ





