কুমামোটো প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা এখন ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই নিপ্পন পেপার কারখানায় একটি চিমনি ভেঙ্গে এবং এইওন শপিং মলে একটি গ্যাস বিস্ফোরণে মারা গেছেন। এছাড়াও আরও নয়টি মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে তবে, সেগুলো ভূমিকম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইয়াতসুশিরো শহরের প্রধান পানির পাইপলাইনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাখো মানুষ পানিহীন অবস্থায় রয়েছেন। একই সাথে ৫০ হাজারের হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। তীব্র গরমে দুর্গত মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের হিটস্ট্রোক এবং পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এ পরিস্থিতিতে ৯ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, আবার অনেকেই আফটারশকের ভয়ে খোলা জায়গায় নিজেদের গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জরুরি এসি পাঠানোর ব্যবস্থা করছে দেশটির প্রশাসন।
স্থানীয় কর্মকর্তা আকিও মাতসুশিতা বলেছেন, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পানির পাইপলাইনগুলো মেরামত করতে দিন, সপ্তাহ নাকি মাস লাগবে, সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। তবে একটি কিউশু বিদ্যুৎ কেম্পানির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সংস্থাটি শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে।
অন্যদিকে, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি জাপানিজ সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের (এসডিএফ) প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সদস্য।
এরআগে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ৪টা ২৭ মিনিটে কুমামোতো প্রিফেকচারের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলে ১ মিটার (৩.২৮ ফুট) উচ্চতার সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)। তবে ভূমিকম্পটি মূলত স্থলভাগের কাছাকাছি হওয়ায় বড় কোনো সুনামি ক্রিয়াকলাপ দেখা যায়নি এবং পরবর্তীতে এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্ভাব্য শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেএমএ।
প্রসঙ্গত, পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয় জাপানে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই দেশটিতে বেশি ভূমিকম্প হয়। দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে দুই হাজারের মতো ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে থাকে। তবে ভূমিকম্পগুলোর অধিকাংশই ক্ষীণ হয়ে থাকে।
সূত্র: রয়টার্স, জাপান টাইমস
এস