কলকাতায় রওনা হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করে তসলিমা লেখেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিহিত সেই ছবি প্রকাশের পর থেকেই তার কলকাতা সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

‘সেক্যুলার মিশন ট্রাস্ট’ আয়োজিত ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী একটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে কলকাতায় যান তসলিমা নাসরিন। সেখানে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর কলকাতায় পা রাখা আমার কাছে কেবল অন্য কোনো শহরে আসা নয়, বরং নিজের ঘরে ফেরার মতো অনুভূতি।’

তিনি আরো বলেন, এই প্রত্যাবর্তন কোনো ব্যক্তিগত বিজয় নয়; বরং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা। তার ভাষায়, ‘ফতোয়া বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একজন লেখককে হয়তো সাময়িকভাবে কোনো ভৌগোলিক স্থান থেকে দূরে রাখা যায়, কিন্তু তার চিন্তা ও লেখাকে কখনো রুদ্ধ করা যায় না। একজন লেখকের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা কোনো রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুকম্পার বিষয় হতে পারে না, এটি মৌলিক অধিকার।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ধর্মীয় মৌলবাদীদের তীব্র বিরোধিতা ও ফতোয়ার মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর ২০০৪ সালে ভারতের ভিসা পেয়ে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

তবে ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ ঘিরে কলকাতায় তীব্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হলে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে শহর ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর থেকে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ ভিসায় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।

তার এই প্রত্যাবর্তন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস