ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল বলেছেন, আগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি ইউরোপের দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। বুধবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি নির্ধারণী পরিষদের প্রধান জোসেপ বোরেল ফ্রান্সের দৈনিক পত্রিকা লে মনডেকে বলেন, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সরিয়ে নেয়া এবং দেশটিতে তালেবানের ক্ষমতায় ফিরে আসা ইউরোপকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছে। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে সমগ্র ইউরোপের জন্য একক সাংস্কৃতিক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এর মাধ্যমে ইউরোপের স্বতন্ত্রতা রক্ষা পাবে। এছাড়া আফগানিস্তানে পশ্চিমা শক্তির আকস্মিক পতনের পর ন্যাটোসহ সমগ্র ইউরোপকে একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো রাশিয়ার আগ্রাসন ও অভিবাসী সঙ্কট নিয়ে পর্তুগাল ও লাটভিয়ার তেমন কোনো উদ্বেগ নেই। জোসেপ বোরেলের মতে একই ধরনের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশের মধ্যকার পার্থক্য ও মতভেদ দূর হবে।

জোসেপ বোরেল বলেন, আমাদের ভাবতে হবে যে আগানিস্তানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা কী ছিল আর কেন পশ্চিমারা ২০ বছর ওই দেশটিতে অবস্থান করার পরেও ব্যর্থ হলো।

তিনি বলেন, আমরা কেমন বিশ্বে বাস করছি তা নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর জনগণকে ভাবতে হবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অন্য দেশগুলোর সাথে শান্তিপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলাম। কিন্তু, ২০০১ সালের ১১ সেপোটম্বর পর বিশ্বে অনেক নতুন সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। চীন, রাশিয়া ও তুর্কি সাম্রাজ্যের নবজন্ম হয়েছে। কতগুলো সাম্রাজ্যের ধারণা পুনরায় উদ্ভাবন করা হয়েছে। কিন্তু, নতুন এ সাম্রাজ্যবাদের ধারণা ঐতিহাসিক বাস্তবতার ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে।

আফগানিস্তানে তালেবান কর্তৃপক্ষের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে জোসেপ বোরেল বলেন, সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তালেবানকে কতগুলো বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন : আফগান সমাজ ও নারীদের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। এছাড়া পশ্চিমা সমর্থক আফগানদের ওই দেশ থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাড়ানো হবে। এছাড়া আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক দফতর খোলা হবে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।

এবিএস