আপনি কিছুটা অলসতা প্রবণ হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো এটি নিয়ে আপনার মধ্যে কিছুটা অপরাধ প্রবণতা কাজ করে। কিন্তু এখন বিষয়টি নিয়ে আপনি নতুন করে চিন্তা করতে পারেন।

লুচি মেলবোর্নের একজন অভিনেতা, তার দাবি অলস হওয়াকে যতটা খারাপ ভাবা হয়, এটি আসলে ততটা খারাপ নয়। মজার বিষয় হলো গবেষকরাও তার তত্ত্বকে সমর্থন দিচ্ছেন।

লুচি বলছেন, "অলস হওয়া খুব খারাপ নয়, অলস মানুষেরা বেশি ক্রেডিট ডিজার্ভ করে"।

তার দাবি অলসতাকে প্রায়শই নেতিবাচক আচরণ হিসেবে দেখা হয় কিন্তু এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। কারণ এটা আপনাকে :

• অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়তা করে
• বেশ শক্তির যোগান দেয়
• এবং কাজ দ্রুত শেষ করতে পথ দেখায় যাতে করে একই কাজ দ্বিতীয়বার করতে না হয়

লুচি বলছেন, উদ্ভাবনের জননী আলস্য। অনেক মহান উদ্ভাবনের উৎসাহ এসেছে অলসতা থেকেই। "যেমন ধরুন টেলিফোন। অনেক হেটে হয়তো কারও বাসায় গিয়ে হেলো বলতে হতো"।

এ ধরণের চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে লুচি একা নন। মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে প্রায়শই উদ্ধৃত করা হয় যে, তিনি বলেছেন কঠিন কাজের জন্য তিনি একজন অলস ব্যক্তিকেই পছন্দ করবেন কারণ কাজটি সহজে করার পথ তারাই খুঁজে বের করবেন।

আলস্য মস্তিষ্ককে পরিশ্রমী করে তোলে জানিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মাসুদ হোসেইন বলছেন, অলস হলে সেটি মস্তিষ্ককে পরিশ্রমী করে তোলে।

তিনি অলস ও অলস নন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষাও চালিয়েছেন। "আমরা তাদের একটি টেস্ট দিতে বলেছিলাম"। এবং এর ফলাফল অলস মানুষের মস্তিষ্ক বেশি শক্তি খরচ করে।

এটা খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো বিষয় না যে অলসরা পুরষ্কারের জন্য কম চেষ্টা করবে কিন্তু যখন মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হলো তখন বিজ্ঞানীরা খুব অবাক হলো। অলসদের অনেক সময় নেতিবাচক ভাবে দেখা হয়।

"অলসদের মস্তিষ্ক অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিলো। এটা গঠনশৈলীর দিক থেকে নয় বরং যখন তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলো তখনকার সক্রিয়তার দিক থেকে," প্রফেসর হুসেইন বলছিলেন।

তিনি বলেন বিস্ময়কর হলেও সত্য যে অলসদের মস্তিষ্ক ছিলো বেশি সক্রিয়। কিন্তু যদি অলস ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বেশি সক্রিয় থাকে তাহলে আলস্যকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয় কেন ?

এম বিল্লাহ

সূত্র: বিবিসি