সুন্দর এই পৃথিবীতে বহুদিন বাঁচতে চায় সবাই। গরিব হোক বা ধনী, লড়াই করে বেঁচে থাকার ইচ্ছা তো সবার মধ্যেই থাকে।
কিন্তু অনেক সময় নানা রকম শারীরিক সমস্যা সেই ইচ্ছার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাই ক্রমশ হারাতে বসে মানুষ। নাহ! এবার থেকে সেই ইচ্ছা আর হারিয়ে যাবে না। সেরকমই বলছে একটি গবেষণা। শরীর স্বাস্থ্য ও হার্টকে সুস্থ রেখে কিভাবে দীর্ঘদিন বাঁচা যাবে তাই নিয়ে রয়েছে আমাদের আজকের বিশেষ এই প্রতিবেদন।
রোজা শুধু আল্লাহর জন্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজের সঙ্গে রোজার সম্পর্ক ঘোষণা করেছেন। এমনিভাবে তিনি সব ইবাদত-বন্দেগি থেকে রোজাকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছেন।
যেমন তিনি এক হাদিসে কুদসিতে বলেন, 'মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম, তা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। ' (মুসলিম -২৭৬০)
বয়স বাড়লে হার্টের সমস্যা একটি সাধারণ বিষয় বটে। তবে আজকাল অসুখ আর বয়স দেখে হয় না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা যে রকম জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি তাতে অন্যান্য রোগের সঙ্গে হার্টের সমস্যা একটি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আর এই সমস্যা থেকে বাঁচতে গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন একটি তথ্য। তাতে বলা হয়েছে বেশি দিন বাঁচতে চাইলে অবশ্যই মাসে একদিন উপবাস বা রোজা থাকুন। আর এই উপবাস মানে ২৪ ঘণ্টা সম্পূর্ণ খালি পেটে থাকা। কিছু মুখে তোলা যাবে না। খবর কলকাতা ২৪
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমিক উপবাস হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনকাল অনেক বেশি দীর্ঘায়িত করতে পারে। মাঝে মাঝে উপবাস হিসাবে প্রচলিত ধারণাটিতে দেখা গিয়েছে মানুষ গোটা দিন উপবাসের বদলে মাঝে মাঝে কিছু খাবার ও পানীয় গ্রহন করছে। যেটা একদমই করা উচিত নয়।
গবেষণায় জানা গিয়েছে, যে সমস্ত হার্টের রোগীরা উপবাস করেন তাঁরা বেশি দিন বাঁচেন। যেসব মানুষেরা এইভাবে উপবাস করেন তাদের ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
রোজা রাখার ৫ উপকারিতা
১. এক মাস রোজা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। মাসব্যাপী খাবারের সংযম বছরের বাকি মাসগুলোতে শরীরকে অধিক কর্মক্ষম করে। বিশেষ করে পরিপাকতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। লিভার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। রোজার ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বিশ্রাম লাভ করে। শরীরের সঞ্চিত বিষাক্ত পদার্থগুলো দূর হয়ে যায়।
২. পৃথিবীতে প্রতি বছর অপুষ্টিতে যত মানুষ মারা যায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় অতিপুষ্টিতে বা অতিরিক্ত পানাহারের ফলে সৃষ্ট সমস্যা থেকে।
৩. যখনই একবেলা খাওয়া বন্ধ থাকে তখনই দেহ সেই মুহূর্তটিকে রোগ মুক্তির সাধনায় নিয়োজিত করে। অতিভোজনের ফলে দেহে যে টক্সিন তৈরি হয় তা বায়ুমন্ডলীকে বিষাক্ত করে তোলে। ফলে দেহে এক অস্বাভাবিক রকমের ক্লান্তিবোদ ও জড়তা নেমে আসে।
৪. এক মাসের রোজায় ওজন হ্রাস পায়, রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল কমে আসে, করোনারি ধমনীতে সঞ্চিত চর্বি কমতে থাকে যদি রোজায় চর্বি জাতীয় খাবার ও ভাজা-পোড়া খাবার কম খায়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।
৫. গ্যাস্ট্রিক বা ডিওডেনাল আলসারের কারণে যারা রোজা রাখতে ভয় পান তাদের জন্য সুখবর, রোজা আলসার বৃদ্ধি করে না। এটি আজ চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের অভিমত। কেননা রোজা যেহেতু মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসে সেহেতু এসিড নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকে।
এএস





