পছন্দের পোশাক হিসেবে শার্টকে শীর্ষে রাখেন অনেক নারীরাই। ছিমছাম সাজ আর কম সময়ে পরিধানের ক্ষেত্রে শার্টের জুড়ি নেই।

বর্তমান সময়ে পোশাক ইউনিসেক্স হলেও অতীতে ছেলেদের পোশাক এবং মেয়েদের পোশাকে থাকতো অনেক পার্থক্য। টাইমস অব ইন্ডিয়া

এমনকি শার্টের বোতামও কোন পাশে থাকবে তা নির্ধারণ করা হলো লিঙ্গ ভেদে। এমন প্রশ্ন এসেছে যে কেন নারীদের পোশাকের বোতাম বামে আর পুরুষের ডানে হয়?

একদল ইতিহাসবিদ মনে করেন, নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নির্দেশেই এমন ব্যবস্থার চালু হয়। কারণ, তিনি সবসময় একটি হাত শার্টের মধ্যে বুকের কাছে লুকিয়ে রাখতেন। আর নারীরা সবসময় তার এই অভ্যাস নিয়ে ব্যঙ্গ করতো।

তাই, এসব ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বন্ধ করার জন্য নেপোলিয়ন নাকি নির্দেশ দিয়েছিলেন নারীদের শার্টের বোতাম যেন উল্টোদিকে অর্থাৎ বাম দিকে লাগানো হয়! আর সেই থেকেই নাকি এ প্রচলন।

নারীরা নিজের পোশাক নিজে পরতেন না:
প্রাচীন কালে অভিজাত পরিবারের নারীরা নিজেদের পোশাক নিজেরা পরতেন না। তাদের অধীনস্থ নারীরা পরিয়ে দিতেন। ডানহাতি এসব কর্মীর সুবিধার্থে পোশাকের বোতাম রাখা হতো বাম দিকে।

অস্ত্র ব্যবহারে সুবিধা:
আত্মরক্ষার জন্য কিংবা যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র রাখতেন প্রাচীন যুগের পুরুষরা। বোতাম ডান পাশে রাখলে তাদের অস্ত্র নিতে সুবিধা হতো। মনে করা হয় সেজন্যই পুরুষের বোতাম ডান দিকে রাখার প্রচলন শুরু হয়েছে।

নেপোলিয়ন থিওরি:
বলা হয়ে থাকে যে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মর্যাদা এবং আভিজাত্যের চিহ্ন হিসেবে মনে করা ওয়েস্টকোটের ভেতরে হাত রেখে তোলা ছবি নিয়ে অনেক নারী ঠাট্টা করেছিলেন। বেশ কিছু সূত্রে জানা যায়, তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন নারীদের শার্টের বোতাম যেন পুরুষের শার্টের বিপরীত দিকে করা হয় যেন নারীরা তার ছবির পোজ নিয়ে ঠাট্টা করতে না পারে।

ঘোড়ায় চড়ার জন্য:
অনেক নারীই আগে ঘোড়ায় চরতেন। বাম দিকে বোতাম থাকলে পোশাকে বাতাস ঢুকা কমে যেত। এতে ঘোড়া চালনা করতে সুবিধা হতো।

ধনীদের অনুকরণ:
পোশাকে বাটন থাকাকে আভিজাত্য মনে করা হতো। আর তাই ধনী নারীদের অনুকরণ করে অন্যরাও পোশাকে বোতাম দেয়া শুরু করলেন। সেসব পোশাকের বোতাম থাকতো বাম দিকে।

এখন আর অন্য কেউ যদিও নারীদের শার্ট পরিয়ে দেয় না, তবে বহুযুগ ধরে চলতে থাকা প্রচলনটা এখন এক প্রকার নিয়মই হয়ে গেছে বলা যায়।

এএস