দুবাইয়ের কার্পেট মেলায় প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে একটি অণিন্দ্য সুন্দর কার্পেট। পারসিয়ান এ হস্তশিল্পটির দাম হাঁকা হয়েছে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।
ইরানের কার্পেটের জগৎ জোড়া খ্যাতি রয়েছে। তবে এ কার্পেটের বিশেষত্ব হচ্ছে এর পুরোটাই হাতে তৈরি। তিনজন তাঁতী ১৪ বছর ধরে এটি বুঁনেছেন!
ইরানের কার্পেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আজিমজাদেহ দুবাই মেলায় এটি প্রদর্শন করছে। প্রতিষ্ঠানের সেলস ম্যানেজার সালেহ এঘবালি বলেন,‘তাঁতীরা বিশেষ আঁতসী কাঁচ ধরে অনেক যত্ন নিয়ে এটি তৈরি করেছেন। সবমিলিয়ে এতে ৪ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি গিঁট রয়েছে। যে কার্পেটে যত বেশি গিঁট থাকবে সেটি হবে তত মূল্যবান।’
তিনি আরও বলেন, খাঁটি সিল্ক সুতা এবং প্রাকৃতিক রং দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। তাই এর দাম এত বেশি। তিনি এ কার্পেটটিকে ‘একটি বিরল শিল্পকর্ম’ হিসেব উল্লেখ করেন। ইরানের বিখ্যাত কার্পেট ব্যবসায়ী মাহমুদ মালাকাউতি। তার পরিবার গত ৯০ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইরানের তরুণরা এখন কার্পেট শিল্পে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারা আর কার্পেট বুনন শিখতে চায় না। কারণ এটি একটি কষ্টসাধ্য কাজ। আর এতে সময়ও বেশি লাগে। এজন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে সহজ এবং অধিক লাভজনক পেশার দিকে ঝুকছে। সংযুক্ত আরব আমীরাতের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল গাজালি বলেন, কার্পেট বুনন ইরানের দু'হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম হলেও এই হস্তশিল্পটি এখন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে।
গত ৪৫ বছর ধরে এ ব্যবসায় জড়িত থাকা গাজালি আরও বলেন, ‘তবে আমার অভিজ্ঞতা বলছে বাজারে এখনো ইরানী কার্পেটের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। উপসাগরীয় দেশেগুলোর বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি ঐতিহ্যবাহী পারসিয়ান কার্পেট দিয়ে সাজাতে চায়। তবে হাজার বছরের পুরনো এই শিল্পকর্মের প্রতি তরুণরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে এবং এত খাটাখাটুনি করে তারা এ কাজ শিখতে চায় না।
তাই ব্যবসায়ী মাহমুদ মালাকাউতি মনে করছেন, এমন একদিন আসবে যেদিন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পিকাসোর চিত্রকর্মের মতোই বিরল হবে ইরানী কার্পেট। তখন অমূল্য চিত্রশিল্পের মতোই সেগুলো বিক্রি হবে। অথবা যাদুঘরের দেয়ালে ঝোলানো থাকবে। ইন্টারনেট
[b]ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]
জীবনযাপন
কার্পেটটির দাম ৬০ লাখ ডলার
‘তাঁতীরা বিশেষ আঁতসী কাঁচ ধরে অনেক যত্ন নিয়ে এটি তৈরি করেছেন। সবমিলিয়ে এতে ৪ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি গিঁট রয়েছে। যে কার্পেটে যত বেশি গিঁট থাকবে সেটি হবে তত মূল্যবান।’ তিনি আরও বলেন, খাঁটি সিল্ক সুতা এবং প্রাকৃতিক রং দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। তাই এর দাম এত বেশি।





