নবজাতককে কত ঘন ঘন খাওয়ানো উচিত?

নবজাতক শিশুকে সাধারণত দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ বার খাওয়ানো উচিত। যদিও কোনো কোনো বাবা-মা খাওয়ানোর কঠোর সময়সূচী অনুসরণ করেন, শিশুরা অনিয়মিত বিরতিতে খেতে চায়, বিশেষ করে প্রথম কয়েক সপ্তাহে। বাবা-মায়েদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে প্রতিবার শিশুকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়াতে হবে। অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে, প্রতি তিন ঘণ্টায় অন্তত একবার খাওয়ানো উচিত।

ক্ষুধার প্রাথমিক লক্ষণ

শিশুরা সাধারণত কান্না শুরু করার আগে ক্ষুধার কিছু লক্ষণ দেখায়। লক্ষ্য হলো শিশুকে তাড়াতাড়ি খাওয়ানো, যাতে সে অস্থির না হয়ে পড়ে। ক্ষুধার সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

* মুখ খোলা এবং বন্ধ করা

* মাথা এদিক-ওদিক ঘোরানো (রুটিং রিফ্লেক্স)

* হাত মুখে আনা

* আঙুল বা মুঠি চোষা

* ঠোঁট চাটানো

* শরীর প্রসারিত করা বা অস্থিরতা।

বাবা-মায়ের জন্য পরামর্শ: আপনার শিশুকে কাছে রাখুন, স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্ট (ত্বকের সাথে ত্বকের সংস্পর্শ) অনুশীলন করুন এবং এই সংকেতগুলো মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করুন। এতে ক্ষুধা তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা সহজ হয়।

কান্না মানেই সবসময় ক্ষুধা নয়: পার্থক্য কীভাবে বুঝবেন

শিশু শুধুমাত্র কান্নার মাধ্যমেই তার অনুভূতি প্রকাশ করে, কিন্তু সব কান্না ক্ষুধার জন্য হয় না। আপনার শিশুর ক্ষুধা পেয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। যদি শিশু সঙ্গে সঙ্গে স্তন ধরে এবং ভালোভাবে খায়, তাহলে সম্ভবত ক্ষুধাই এর কারণ। যদি শিশু ক্রমাগত কাঁদতে থাকে, পা গুটিয়ে নেয়, চোখ ঘষে, বা গ্যাস ছাড়ে, তাহলে এর কারণ হতে পারে অস্বস্তি, পেটব্যথা, ক্লান্তি, বা ডায়াপার ভিজে যাওয়া।

কান্নার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে:

* গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি

* ভেজা বা নোংরা ডায়াপার

* ঘুমের প্রয়োজন

* আরাম বা সান্নিধ্যের আকাঙ্ক্ষা।

শারীরিক বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে শিশুদের কতটা ঘন ঘন খাওয়ানো উচিত?

শিশুরা কখনও কখনও কিছুক্ষণ আগে খাওয়ার পরেও বেশি ক্ষুধা দেখাতে পারে। এটি দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি বা ঘন ঘন খাওয়ার পর্যায়ে ঘটে। সাধারণত দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির পর্যায়গুলো দেখা যায়:

* দ্বিতীয় সপ্তাহ

* ষষ্ঠ সপ্তাহ

* তিন মাস।

এই পর্যায়গুলোতে শিশুরা ঘন ঘন খেতে চাইতে পারে। দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির সময় ঘন ঘন খাওয়ানো স্বাভাবিক এবং উপকারী।

কেন চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানো সবচেয়ে ভালো কাজ করে

প্রথম কাজটি হলো শিশুকে আপনার কাছাকাছি রাখা, যাতে আপনি তার ক্ষুধা ভালোভাবে বুঝতে পারেন। খাওয়ানোর সময় ত্বকের সঙ্গে ত্বকের সংস্পর্শ এবং শান্ত থাকার গুরুত্বের ওপর জোর দিন।

খাওয়ানোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

* কঠোর সময়সূচী মেনে চলার পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ান

* শান্ত পরিবেশ বজায় রাখুন

* সঠিকভাবে স্তন ধরা এবং সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করুন

* মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন, কারণ শিশুরা মায়ের উদ্বেগ বুঝতে পারে।

অতিরিক্ত খাওয়ানো কি ঝুঁকিপূর্ণ?

হ্যাঁ, অতিরিক্ত খাওয়ানো হতে পারে, বিশেষ করে যদি প্রতিটি কান্নাকে ক্ষুধা বলে ভুল করা হয়। শিশুর আচরণের ধরণ পর্যবেক্ষণ করুন সুষম খাদ্য স্বাস্থ্যকর হজম এবং স্থির ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

এমএম