সুষম খাদ্য—যার মধ্যে গোটা শস্য, ফলমূল, শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে—সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান মাসিকের ব্যথা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মাসিকের খিঁচুনির জন্য ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস
প্রদাহবিরোধী গুণের জন্য পরিচিত ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মাসিকের ব্যথা ও খিঁচুনি কমাতে সহায়ক।
ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে—
স্যামন ও সার্ডিনের মতো চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ
আখরোট
চিয়া বীজ
তিসির বীজ
ক্যালসিয়াম
হাড় ও দাঁত মজবুত রাখার পাশাপাশি ক্যালসিয়াম মাসিকজনিত ব্যথা কমাতেও সহায়ক হতে পারে। ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার—
দুগ্ধজাত পণ্য
পাতাযুক্ত শাকসবজি (যেমন পালংশাক)
টফু
কমলার রস
ম্যাগনেসিয়াম
পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ম্যাগনেসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মাসিকের ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার
বাদাম
বিভিন্ন বীজ
গোটা শস্য
ডার্ক চকলেট
ভিটামিন ডি
হাড়ের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। পাশাপাশি এটি মাসিকের ব্যথা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে—
মাছ
ডিমের কুসুম
দুধ
কমলা
এড়িয়ে চলার খাবার
কিছু খাবার শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং মাসিকের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মাসিকের নির্দিষ্ট সময়ে এসব খাবার এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রক্রিয়াজাত খাবার
প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এগুলো প্রদাহ বাড়িয়ে মাসিকের ব্যথা তীব্র করতে পারে।
ক্যাফেইন
ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে, যা খিঁচুনি বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি এটি উদ্বেগ ও বিরক্তি বাড়ায়, ফলে মাসিকের উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। তাই চা ও কফি কম পান করা উচিত।
অ্যালকোহল
অ্যালকোহল শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে। এর ফলে মাসিকের ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।
সুতরাং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপন মাসিকজনিত অস্বস্তি অনেকটাই কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এমএম