পাশ্চাত্যে বলা হয়, নারীর সবচাইতে ভালো বন্ধু হলো হীরে। নারী-পুরুষ সবার কাছেই রয়েছ এর কদর। কার্বন অণু দিয়ে তৈরি হীরেকে পৃথিবীর সবচাইতে কঠিন পদার্থ বলে এক সময় মনে করা হতো।
এখন সিনথেটিক কিছু কার্বনভিত্তিক পদার্থ এর চাইতে বেশি শক্ত হলেও প্রাকৃতিকভাব প্রাপ্ত পদার্থের মধ্যে হীরেই সবচাইতে কঠিন। অন্যান্য রত্নের চাইতে এর সৌন্দর্য এবং ঔজ্জ্বল্যের মাত্রা বেশি হবার পাশাপাশি হীরের রয়েছে আরও একটি বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন রঙের হীরে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু শুধু কার্বনে তৈরি হীরের রঙ বিভিন্ন রকম হয় কেন?
হীরেতে যেসব রঙ দেখতে পাওয়া যায় তার মাঝে রয়েছে ধাতব ধূসর, সাদা, নীল, হলুদ, কমলা, লাল, সবুজ, গোলাপি, বেগুনী, বাদামী এমনকি কালো। এদের রঙ বিভিন্ন হবার কারণ হলো কার্বনের কাঠামোর মাঝে বিভিন্ন ধরণের খাদ জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি অথবা কাঠামোর অস্বাভাবিকতা। হীরে গঠিত হবার সময়েই এসব খাদ কার্বনের কাঠামোর মধ্যে মিশে গিয়ে এমন রঙ তৈরি করে। একেবারে বিশুদ্ধ, খাদ ছাড়া হীরে হলো স্বচ্ছ এবং রঙবিহীন। কি ধরণের খাদ আছে এবং এসব খাদের উপস্থিতির কারণে হীরে কিভাবে আলো শোষণ করে তার ওপর ভিত্তি করে মূলত দুইটি বিশেষ টাইপ এবং কয়েকটি সাব-টাইপে বিভক্ত করা হয় হীরককে।
টাইপ I হীরে হলো সেগুলো যাদের মাঝে প্রধান খাদ হলো নাইট্রোজেন পরমাণু। সাধারণত এই নাইট্রজেনের পরিমাণ হতে পারে ০.১ শতাংশ পর্যন্ত। এই নাইট্রোজেন পরমাণুগুলো যদি নিজেদের মাঝে জোড় বেঁধে থাকে তাহলে তারা হীরের রংকে পরিবর্তন করে না, এটাকে বলে টাইপ IaA।
নাইট্রোজেন পরমাণুগুলো যদি অনেক বেশি পরিমাণে থাকে এবং জোড় সংখ্যায় টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে থাকে, তবে তাদের কারণে হীরের রঙ হয় হলুদ বা বাদামী, এই ধরণের হীরে হলো টাইপ IaB। আর যদি এসব নাইট্রোজেন পরমাণু একত্রে না থেকে আলাদাভাবে ছড়িয়ে থাকে তবে হীরের রঙ হয় গাড় হলুদ বা বাদামী, এটা হলো টাইপ Ib। এই ধরণের হীরেকে বলে ক্যানারি ডায়মন্ড এবং এগুলো বেশ দুর্লভ। কৃত্রিমভাবে হীরে তৈরি করা হলে সেগুলোতে যদি নাইট্রোজেন দেওয়া হয় তবে সেগুলোও টাইপ Ib হবে।
টাইপ II হীরেতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ পরিমাপযোগ্য নয়। টাইপ I এর তুলনায় অন্য ধরণের আলো শোষণ করে তারা। টাইপ IIa হীরের রঙ হতে পারে গোলাপি, লাল বা বাদামী। এর কারণ হলো হীরে গঠনের সময়ে কাঠামোগত ত্রুটি। এরা খুবই দুর্লভ, বিশেষ করে গোলাপি হীরে। আর এদের দামটাও আকাশচুম্বী। খুব বিখ্যাত একটি গোলাপি হীরে হলো দরিয়া-ই-নূর।
টাইপ IIb এর রঙ হতে দেখা যায় হালকা নীল। তার কারণ হলো, কার্বনের কাঠামোর মাঝে বোরনের উপস্থিতি। নীল হীরের মাঝে সবচাইতে বিখ্যাত হলো “হোপ” ডায়মন্ড। বোরন থাকার কারণে এসব হীরের মাঝে আরও একটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। অন্যান্য হীরে বিদ্যুৎ অপরিবাহী হলেও এই নীলচে হীরে তাপ অর্ধপরিবাহী। অবশ্য মাঝে মাঝে টাইপ Ia অর্থাৎ নাইট্রোজেনযুক্ত হীরের মাঝেও ধূসর-নীল একটি রঙ দেখা যায় যার জন্য বোরন দায়ী নয়। এছাড়াও রয়েছে সবুজ রঙের হীরে যা এই কোনও ধরণের মাঝেই পড়ে না। এদের সবুজ রঙ হবার কারণ হলো বিভিন্ন ধরণের রেডিয়েশন।
হীরের রঙের ওপর এর দাম অনেকটাই নির্ভর করে। তবে এখন অনেক কৃত্রিম হীরেকেও রঙিন করে ফেলার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।
[b]ঢাকা, ৬ মার্চ (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]