উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতি এবং ব্যবসায় মাত্র দুটি রঙের টাইয়ের ব্যবহার হয়: লাল এবং নীল। তবে মাঝে-মধ্যে গোলাপি এবং হলুদ রঙের টাইয়ের দেখাও মেলে।
কিন্তু সত্যিই কি লাল বা নীল টাই পরার কোনো ভিন্ন কোনো মাজেজা আছে? হ্যাঁ আছে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় তেমনটিই প্রমাণিত হয়েছে। এসব গবেষণার একটি গবেষণা প্রকাশিত হয় জার্নাল সায়েন্সে,৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে।
টাই লাল বা নীল যাই হোক না কেন এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। গলায় রুমাল বাঁধার রীতি থেকেই নেকটাইয়ের প্রচলন হয়েছে। এবং মানুষরা ইতিহাসের যে সময় থেকে পুরো শরীর ঢেকে রাখার জন্য পোশাক পরার অভ্যাস রপ্ত করেছে তার পর থেকে শুরু করে পুরো ইতিহাসজুড়েই তারা টাই পরেছে। নীল টাই পরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল ব্রিটিশ আভিজাত্যের সম্পর্ক। আর লাল টাই ছিল প্রহরীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
লাল রঙ ভালোবাসার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। আর এ কারণেই জনগনের ভালোবাসা অর্জনের জন্য রাজনীতিবিদদেরকে লাল টাই পরতে দেখা যায়।
এছাড়া মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, লাল এবং নীল রঙ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং গ্রহণক্ষমতাও শক্তিশালি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, লাল রঙ কোনো বিষয়ের বিস্তারিত জানার প্রতি আমাদের মনোযোগ বাড়ায়। আর নীল রঙ আমাদের সৃষ্টিশীলভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে, নীল এবং লাল রঙ জ্ঞানীয় দক্ষতা শক্তিশালি করে। লাল রঙ কোনো বিষয়ের বিস্তারিত জানার কাজকে শক্তিশালি করে। আর প্রুফ রিডিংয়ের কাজকে শক্তিশালি করার ক্ষেত্রে লাল রঙ নীল রঙের চেয়ে ৩১% বেশি ভুমিকা পালন করে।
চিন্তা ভাবনার প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং অন্যান্য সৃষ্টিশীল কাজের ক্ষেত্রে নীল সূত্র বা ইঙ্গিত লোককে লাল সূত্রের চেয়ে দ্বিগুন বেশি উৎপাদনশীল করে তোলে।
লাল রঙ সাধারণত বিপদ, ভুল এবং সাবধানতার সঙ্কেত বহন করে। পরিহার প্রেরণা, তীব্রতর কোনো দশায় লাল আমাদেরকে সতর্ক করে রাখে। যা গভীর মনোযোগ এবং সঠিক বা বেঠিক উত্তর দরকার হয় এমন কাজ করার ক্ষেতে সহায়ক হয়।
আর নীল রঙ?
পানি, সমুদ্র ও আকাশের রঙ নীল হওয়ায় লোকে নীল রঙকে উদারতা, শান্তি এবং স্থির চিত্ততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে দেখে।(সূত্র-লাইভ সায়েন্স)
এমবি





