বয়ঃসন্ধি এমন একটা পর্যায় যখন একটি শিশু একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হয়ে ওঠে। এ সময়ই মানুষের মধ্যে প্রজনন ক্ষমতা তৈরী হয়।

এই সময়ে ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে, যে কারণে তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়ঃসন্ধিকালীন সেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার মতো নীতি গ্রহণ করা গেলে এই ছেলে-মেয়েরা দারিদ্র্য, বৈষম্য ও সহিংসতার চক্র ভেঙে ফেলতে পারে।

তবে এ সময় যেহেতু সন্তানের বোধশক্তি পূর্ণতা পায় না, তাই বাবা-মায়ের অনেকটা সতর্ক থাকতে হয়।

আসুন জেনে নিই বয়ঃসন্ধিতে সন্তানের যেসব সমস্যা হয়।

১. এ সময় আপনার সন্তানের বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তের ফলে শরীরে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে। তাই তারা স্বাধীনচেতা মনোভাব দেখায়।

২. পূর্ণবয়স্ক সুলভ ব্যক্তিত্ব। সামাজিক ও আর্থিক নির্ভরতা থেকে আপেক্ষিক স্বনির্ভরতায় রূপান্তর। এ ছাড়া অন্য লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট যৌন কার্যকলাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

৩. মনে রাখবেন– সন্তান এ সময় বড় হলেও অপরিণত। তাই বাবা-মায়ের ভূমিকা থাকবে বন্ধুর মতো। একই সঙ্গে ওদের আচরণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে।

৪. সন্তানের সঙ্গে অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাব দেখাবেন না। তা হলে তারা অনেক কিছু আড়াল করবে। এমনকি কখনও কখনও বাবা-মায়েদের শত্রু মনে করবে তারা৷ ফলে সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দূরত্ব তৈরি হয়৷ অতিরিক্ত শাসন ওদের মানসিক বৃদ্ধিতে বাধা হতে পারে।

৫. সন্তানদের কাছে বাবা-মায়ের প্রত্যাশা থাকবে। তবে সেই প্রত্যাশার একটা সীমারেখা থাকা দরকার। বয়ঃসন্ধির সময় সন্তানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সত্যিকারের বন্ধুকে টিনএজাররা এই সময়টা আঁকড়ে ধরতে চায়। তাই বাবা-মা যদি হন সেই বন্ধু, তা হলে ক্ষতি কী?। তথ্যসূত্র: কলকাতা২৪