মনোদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো Interactionism- অন্তর্ক্রিয়াবাদ বা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াবাদ। বিষয়টির মূল বক্তব্য হলো মানসিক অবস্থা যেমন শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে, তেমনি শরীরের অবস্থাও মনের ওপর প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ দেহের সঙ্গে মনের আন্ত:সম্পর্ক আছে।

তবে আরেকটি প্রবাদ আছে 'স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল'। অর্থাৎ যার স্বাস্থ্য ভালো আছে, তার সবই ভালো। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মন এমনিতেই ভালো থাকে। আর মন ভালো থাকলে সবই ভালো লাগবে। তবে এর উল্টো বক্তব্যও কিন্তু প্রচলিত আছে এবং এর বাস্তবতাও অনেক বেশি।

কারণ কোন মানুষ যখন নিজের মনোবল বা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে তখন তার পরাজয় নিশ্চিত। এই বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত বলেই জানা যায়। বাস্তবতা হলো যখন কোন ব্যক্তি মনে করে আমি সুস্থ্য, তখন শরীরের 'সাধারণ' কোন সমস্যা তার ওপর তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারে না।

কিন্তু যদি কেউ এমন মনে করেন যে, 'আমার শরীর খারাপ বা জ্বর জ্বর লাগছে', তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় তিনি অসুস্থ। অর্থাৎ তার মনোবল ভেঙে গেছে। আর মনোবল ভেঙে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে নিজেকে দুর্বল করে ফেলা। যার ফলাফল হলো- সুস্থ্ থাকার পরও তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এজন্য আপনাকেই ঠিক করতে হবে- আপনি সুস্থ্ থাকতে চান নাকি অসুস্থ্। নিজেকে সুস্থ্ রাখতে চাইলে অবশ্যই প্রথমে নিজেকে সুস্থ্ বলে দাবি করুন অর্থাৎ আপনি যে সুস্থ্ তা প্রমাণ করতে চেষ্টা করুন। তবে বড় কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এছাড়াও কতিপয় টিপস অবলম্বন করেও নিজের মন ও শরীর সুস্থ্ রাখা যায়। এরকম কিছু কার্যকরী টিপস এখানে তুলে ধরা হলো, যা আপনার শরীর ও মন ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। চলুন একটু সচেতন হই। শরীর আর মন ভালো থাকার সাথে No compromise...

১. নেতিবাচক চিন্তা করার বদলে ইতিবাচক চিন্তা করুন।

২. বিপদে মনোবল হারাবেন না।

৩. সফল ব্যক্তিদের জীবনী পড়ুন।

৪. প্রিয়জনের সঙ্গে কাটান।

৫. পরিবার বা বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যান।

৬. নিজেকে কখনোই দুঃখী মানুষ ভাববেন না।

৭. ভালো কোনো গল্পের বই পড়ুন, ভালো চলচ্চিত্র দেখুন।

৮. শিল্প-সাহিত্যবিষয়ক প্রদর্শনী দেখতে যান।

৯. প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের উপহার দিন।

১০. সুখ স্মৃতি স্মরণ করুন।

১১. প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কষ্ট ভাগ করুন।

১২. মুক্ত বাতাসে, খোলা আকাশের নিচে হাঁটুন।

১৩. ছুটির দিনে দূরে কোথাও পিকনিকে যান বা বেড়াতে যান।

১৪. সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন।

১৫. অফিস বা পড়ার টেবিলে ছোট্ট ফুলদানিতে তাজা ফুল রাখুন।

১৬ কাজের মাঝে বিরতি দিন

১৭. নির্জনে কোনো এক স্থানে বসে ২০ থেকে ৩০ মিনিট নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করুন।

১৮. সৃজনশীল কাজ করুন।

১৯. দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

২০. সুষম খাবার খান এবং খাবার গ্রহণের সময়সূচি অনুসরণ করার চেষ্টা করুন। 'ভালো আপনাকে থাকতেই হবে'- বিষয়টা মাথায় রাখুন। ভালো থাকার জন্য নিজে থেকেই টিপস তৈরি করুন। আর মেনে চলার চেষ্টা করুন।

এআর