ধূমপায়ীদের মধ্যে একটা ধারণা কাজ করে। তারা মনে করেন যে ধূমপান ছেড়ে দিলে বন্ধুর সংখ্যা কমে আসবে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিপরীত ঘটনাই ঘটে। অর্থাৎ, ধূমপান ছেড়ে দিলে বন্ধুর সংখ্য উল্টো বেড়ে যায়।

ইউনিভার্সিটি অব উইনকন্সিন-ম্যাডিসন'র সেন্টার ফর টোবাকো রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টারভেনশনের গবেষক মেগান ই পিপার জানান, ধূমপায়ীরা ভাবেন যে এটা ছেড়ে দিলে অন্যান্য ধূমপায়ীদের সঙ্গে তাদেরর সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। কিন্তু ধূমপান ছাড়লে তা ঘটে না। বরং অন্যান্য অধূমপায়ীদের বন্ধুত্ব জোটে।

আধুনিক যুগে অধূমপায়ীদের সংখ্যা অনেক বেশি। একটা সময় ধূমপায়ী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। এই প্রথমবারের মতো ধূমপান ছেড়ে দেওয়া বা না দেওয়ার সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা হলো, জানান মেগান।

পিপার এবং তার সহকর্মীরা ৬৯১ জন ধূমপায়ীর সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেন। তাদের বন্ধুর সংখ্যা, নতুন বন্ধুত্ব, ধূমপানের অভ্যাস এবং রোমান্টিক সঙ্গী-সঙ্গিনীর ধূমপানের অভ্যাসও বিবেচনায় আনা হয়।

টানা ৩ বছরের গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের যারা ধূমপান ত্যাগ করেন তাদের পরীক্ষা করা হয়। এ অবস্থায় তাদের সামাজিক অবস্থা দেখা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৪ জন এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ৯ জন বন্ধুর কথা লিখতে বলা হয়।

সামাজিক সম্পর্ককে গবেষকরা কয়েক ভাগে ভাগ করেন। যেমন- বড় দল যেখানে প্রায় সবাই ধূমপায়ী, কম ধূমপায়ীদের বড় দল, বন্ধু ও প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ধূমপায়ী সঙ্গী-সঙ্গিনী ইত্যাদি।

যারা প্রথম এক বা দুই বছরের মধ্যে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন তাদের সামাজিক অবস্থাও বদলে গেছে। দেখা গেছে, অন্য ধূমপায়ীদের সঙ্গে তাদের কিছুটা দূরত্ব বেড়েছে। কিন্ত সবমিলিয়ে তাদের বন্ধুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

পিপার জানান, যখন আপনি ধূমপায়ী তখন আপনার সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে মিশে যেতে দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু এটা ছেড়ে দিলে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বড় একটা অংশ আপনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।

ধূমপান ছাড়ার বিষয়ে কেউ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় তার মনে বন্ধু হারানোর আশঙ্কা কাজ করছে কিনা। কিন্তু ধূমপান ছাড়লে বন্ধুত্ব স্থাপনে বরং সমাজের বড় অংশকে পেয়ে যাবেন।

সূত্র : এনডিটিভি

 

এম এ