নুপুর থাকলে, পা সুন্দর; চুড়ি থাকলে, হাত...। আজ নুপুর নিয়ে নয়, শুধু ললনাদের ঝনঝনানির গোপন রহস্য চুড়ি নিয়ে কথা বলবো।
'কিনে দে রেশমি চুড়ি
নইলে যাবো বাপের বাড়ি
দিবি বলে কাল কাটালি
জানি তোর জারিজুরি।'
হ্যাঁ, বাংলার নারীদের কাছে চুড়ির কদর সেই প্রাচীনকাল থেকেই,সাজগোজের সময় দুহাত ভরতি করে চুড়ি না পরতে পারলে সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ রয়ে যেত।চুড়ি যে নারীর সৌন্দর্য অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয় এতে কোনও সন্দেহ নেই। আর বিশেষ করে যেকোন উৎসব আয়োজনের দিন জমকালো সাজের সঙ্গে একগুচ্ছ চুড়ি যেন না পড়লেই নয়!একটা সময় ছিল যখন যুবকের মনে কাঁপন তুলতো চুড়ির রিনিঝিনি রিনিঝিনি শব্দ। আর সেই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েই তো বিদ্রোহী কবি লিখেছিলেন-
'আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা,
তার কাঁকন চুড়ির কনকন'।

শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার ‘অরক্ষণীয়া’ উপন্যাসে নারীর চুড়িপ্রেম ফুটিয়ে তুলেছেন বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যে। বুড়ো মেসতুতো ভাই জ্ঞানদার হবু বউয়ের জন্য মাসিমা দুর্গামণির হাতে অতুল যেই আকর্ষণীয় চুড়ি তুলে দিয়ে ছিলেন, তার বর্ণনা এসেছে এভাবে :
‘তাহার রং এবং কারুকার্য দেখিয়া দুর্গামণি অত্যন্ত পুলকিতচিত্তে দাতার ভূয়োঃ ভূয়োঃ যশোগান করিতে লাগিলেন। চুড়ি দুগাছি কাচের বটে, কিন্তু সেরূপ মূল্যবান বাহারে চুড়ি পাড়াগাঁয়ে কেন, কলিকাতাতেও তখনো আমদানি হয় নাই। বস্তুত তাহার গঠন, চাকচিক্য এবং সৌন্দর্য দেখিয়া মায়ের নাম করিয়া অতুল নিজের টাকাতেই বোম্বাই হইতে ক্রয় করিয়া আনিয়াছিল।’
আর বাংলা গানে এসেছে :
‘আমার চুড়ির রিনিক ঝিনিক রে
তার কাছে লাগত বড় বেশ।’
হ্যাঁ, চুড়ির আবেদন সব সময়ই ছিল। হয়তো থাকবে নানা আঙ্গিকে। তবে এক সময় শুধু শাড়ির সঙ্গেই পরত ললনারা। তারা সোনা আর কাচের চুড়ি পছন্দ করতেন। এখন সময়ের নিয়মে ‘সময়’ বদলে গেছে। তারপরও চুড়ির আবেদন কমেনি। বরং হাল ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে চুড়ি নানান ফরমেটে-ডিজাইনে।

রেশমি চুড়ির ইতিহাস প্রায় একশ বছর আগের। তখন সম্ভ্রান্ত জমিদার ও নবাব পরিবারের নারীদের হাতে রেশমি চুড়ি থাকাটা ছিল অবধারিত। এখনো সেই রেশমি চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ আমাদের মনে দোলা দিয়ে যায়।তবে নতুন প্রজন্মের নারীদের কাছেও চুড়ি সমানভাবেই সমাদৃত।
এখন যুগ পাল্টেছে আর সেই সাথে পাল্টেছে চুড়ির ধরনও, রেশমী চুড়ির পাশাপাশি সমান ভাবে জায়গা করে নিয়েছে কাঠ, মেটাল আর প্লাস্টিক আর মাটির চুড়িও।কারণ এগুলো প্রচলিত ধারার বাইরে এসে চুড়ির বৈচিত্র্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
চুড়ি পরার প্রচলন মূলত শাড়ি বা লেহেঙ্গার সাথে হলেও আজকার ফতুয়া, লংস্কার্ট বা সালোয়ার কামিজের সাথেও তরুণীদের চুড়ি পরার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।তবে সেটা হতে হবে অবশ্যই পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যাতে মানিয়ে যায়।

আমাদের দেশের প্রতিটি নারীর যেকোন উৎসব আয়োজনের দিন জমকালো সাজের সঙ্গে একগুঞ্ছ চুড়ি যেন না হলেই নয়! কারন যে কোনো বাঙালি নারীর সাজের গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হলো কানের দুল, কপালে টিপ ও দু'হাত ভর্তি চুড়ি, বিশেষ করে রিনিঝিনি শব্দ তোলা একগুঞ্ছ কাচের চুড়ি। বাঙ্গালি নারীদের কাছে এর থেকে বেশি আকর্ষণীয় অলঙ্কার আর কিছুই যেন হতে পারে না! আর সেজন্যই যেন মনে হয় কেউ একজন তার প্রেয়সীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন "দিকবিদিকে ঘুরি, তোমার জইন্য আনছি দেখ লাল দুই মুঠ চুড়ি।”
নারীর হাতে রেশমি চুড়ি
![]()
বর্তমানে তরুনীরা শুধু শাড়ি বা সেলোয়ার-কামিজই নয়, ফতুয়া ও টি-র্শাটের সাথেও রেশমী চুড়ি পরে যাচ্ছেন অবলীলায়। সব বয়সের নারীর হাতে এ চুড়ি বেশ মানিয়ে যায় ।
খাঁজকাটা, রঙ্গিন কাঁচের চুড়ি

রেশমী চুড়ির পাশাপাশি আছে খাঁজকাটা, রঙ্গিন কাঁচের চুড়ি। এগুলো একদিকে যেমন বাংলা ঐতিহ্যের কথা বলে, তেমনি হালফ্যাশনেও যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
কাচের চুড়ির রিনিঝিনি আওয়াজ আর বাহারি রঙের মিশেলে জড়িয়ে আছে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ, পোশাক যাই হোক না কেন এখনো অনেক আধুনিক তর”ণীর পছন্দের এক বিশেষ অনুষঙ্গ হচ্ছে কাচের চুড়ি।
অবশ্য আজকাল সব কিছুতেই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রচলিত ধারার বাইরে আধুনিক মানুষের আগ্রহ বেড়েছে নান্দনিকতার দিকে। তাই অতীতের সাদামাটা এক রঙের কাচের চুড়িতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শিল্পের বাহারি ডিজাইনের ছোঁয়া। কাচের চুড়ির পাশাপাশি এখন কাচের চুড়ির ওপর নানা রঙের পাথর, চুমকি, জরিসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে আনা হচ্ছে নতুনত্ব।

আবার কাচের চুড়ির আধিপত্যে ধীরে ধীরে ভাগ বসাচ্ছে চৌকো, ত্রিকোণ, ডিম্বাকৃতির প্লাস্টিক ও মেটাল চুড়ি। বস্তুত বাঙালি নারীদের এক অনন্য অলঙ্কার হচ্ছে চুড়ি। এমন অনেক নারীই আছে যারা যে কোনো পোশাকেই চুড়ি পরেন। চুড়ি ছাড়া তাদের দিনই কাটে না।
তবে আধুনিকতার কল্যাণে মেটাল, সুতা, চামড়া, ব্যাকেলাইট, রবার, কাঠ, মাটি, বিডস, পুঁতি, সিটি গোল্ডসহ নানা ধরনের চুড়ির ব্যবহার বাড়ছে।
এক সময় চুড়ি প্রধানত কাচ থেকে তৈরি হতো। তবে শামুকের খোল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও হাতির দাঁতের চুরিও তখন ছিল।
চুড়ির সঙ্গে সখ্যতা
বাঙালি নারীর সঙ্গে চুড়ির গভীর সখ্য ঠিক কবে সৃষ্টি হয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য রেকর্ড আমাদের হাতে নেই। তবে চুড়ি পরতে ভালবাসেন সব বয়সী নারী। উৎসবের দিন জমকালো সাজের সঙ্গে চুড়ি এখন অপরিহার্য হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, হাতে চুড়ি না থাকলে সাজ ঠিক পরিপূর্ণতা পায় না। পত্রিকার বিশেষ পাতায় বিভিন্ন উৎসবের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দসই চুড়ি পরার প্রেসক্রিপশন হামেশাই চোখে পড়ে।

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে চুড়ির প্রচলন রয়েছে। এটা চেকে naramek, ডাচে enkelring, ফিনিশে rannerengas, জার্মানে armreif, হাঙ্গেরিয়ানে karperec, ইন্দোনেশিয়ায় gelang, ইতালিয়ানে braccialette, মালয়ে gelang, স্পেনিশে brazlete ও তুর্কিতে halhal, তামিলে ভালায়ন, মালয়ালমে ভালা আর নেপালিতে চুরা নামে পরিচিত।
ভারতীয় উপমহাদেশে চুড়ি ঠিক কবে চালু হয়েছে, তার সঠিক তথ্য কারো কাছে নেই। তবে বিভিন্ন প্রত্নতাত্তিক খননকালে খোল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও আকিক পাথরের চুড়ি পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানের মহেঞ্জোদারোতে (যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও ২৬শ বছর আগে) পাওয়া এক মূর্তিতে দেখা যায়, নৃত্যরত এক বালিকার বাম হাতে চুরি রয়েছে। সম্ভবত তখন দুহাতে চুড়ি পরার সংস্কৃতি ছিল না। অন্যদিকে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ডিজাইনের চুড়ি পাওয়া গেছে ভারতের তক্ষশীলায়।
হীরা, মূল্যবান পাথর আর মুক্তো বসানো চুড়ির প্রচলন এখনো ভারতীয় উপমহাদেশে রয়েছে। এক সময় লাক্ষার তৈরি চুড়িরও বেশ প্রচলন ছিল এখানে। আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অংশেও চুড়ির প্রচলন রয়েছে।
বিয়ের চুড়ি সাধারণত রঙিন হয়ে থাকে। লাল রঙের চুড়ি হচ্ছে ‘জীবন ও আনন্দের প্রতীক’ আর সবুজ রঙের চুড়ি হচ্ছে ‘উর্বরতার প্রতীক’। চুড়ি দুই হাতে পরা যায়। এক হাতে পরতেও বাধা নেই।

আধুনিক প্রজন্মের তরুণী সমাজের একটি অংশ এখন বেশ আগ্রহ নিয়েই চুড়ি পরছে। তবে তাদের এই চুড়ি ‘খাড়–’ নামে পরিচিত। এটা রবার অথবা ধাতুর তৈরি হতে পারে। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের উঠতি তরুণীরা এটা পরছে।
গিফট আইটেম হিসাবেও চুড়ি বেশ আদরণীয়। কারণ নারীরা শাড়ি বা জামার সঙ্গে ম্যাচিং করে চুড়ি পরতে এখন বেশ সচেতন।
চুড়ি নিয়ে কুসংস্কারও আছে। বলা হয়, চুড়ির কারণে স্বামীর নিরাপত্তা যেমন বাড়ে, তেমনি ভাগ্যও ফেরে। আবার চুড়ি অকারণে ভেঙে গেলে স্বামীর বিপদ ঘটে।

আমাদের দেশে বৈশাখে লাল-সাদা বিভিন্ন বর্ণের রেশমি চুড়ি পরে নিজেকে নানাভাবে সাজানোর প্রবণতা নারীদের মাঝে এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার তারাই ভিন্ন উৎসবের দৈনন্দিন পথচলায় দেশপ্রেমের বহির্প্রকাশ ঘটাচ্ছেন পতাকার রং মিলিয়ে লাল-সবুজ রঙের হাত ভরা চুড়ি পরে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে প্রতিটি উৎসবেই বাঙালি নারী চুড়ি সাজের জন্য বেছে নিচ্ছে বিশেষ বিশেষ রংকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি চুড়ি।
হাতভরা চুড়ি পরা বাঙালি সংস্কৃতির একটি অংশ। ফ্যাশনবিদরা বলেন, হাতের গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে দুহাত ভরা চুড়ি হাতের সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দেয়, তেমনি সাজকেও করে পরিপূর্ণ।
একবার এক মহিলা তার স্বামীর সঙ্গে শপিং করতে গেছে। এক পর্যায়ে ওই উন্নাসিক মহিলা এক সেট চুড়ি পছন্দ করল।
‘তুমি এত চুড়ি কেনো। অথচ কোনদিন পরতে দেখি না’ স্বামী অনুযোগের সুরে বলল।
‘চুড়ি পরলে ভেঙে যাবে। তাই চুড়ি পরি না, শুধু কিনি’ মহিলার চটপট জবাব।
তাই তো চুড়ি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরনের মজার মজার গান।
‘হাত ভরা চুড়ি চাই
রঙিলা শাড়ি চাই...।’

ঋতুবৈচিত্র্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ও বিশেষ দিবসকে গুরুত্ব দিয়ে চুড়ির রং নির্বাচন করেন বাঙালি নারীরা। বসন্তে লাল-হলুদ, বাসন্তী। বৈশাখে লাল-সাদা। বিশেষ দিবস যেমন—একুশে সাদা-কালো, বিজয় আর স্বাধীনতা দিবসে লাল-সবুজ রংয়ের চুড়ি হাতে পরে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটায় বাঙালি ললনারা। তবে তরুণীদের কাছে লাল-সবুজ চুড়ি সারাবছরই প্রিয়।
চুড়ির জন্য খরচা-পাতি
চুড়ির দাম সম্পর্কে রাজধানী মার্কেটের এক চুড়ি বিক্রেতা বলেন, ঝলক চুড়ি ১৪০ টাকা ডজন। এটি আমাদের দেশের তৈরি উন্নতমানের চুড়ি। রেশমি চুড়ি ২০-২৫ টাকা করে। এছাড়া রয়েছে জয়পুরী স্টিল-২৮০, সুতি চুড়ি-৭০ টাকা। মুক্তার বালা-স্টোন, গ্লিটার আর মুক্তার সংমিশ্রণে তৈরি। বালাগুলো দেখতে খুব সুন্দর।

মোঃ আল আমিন বলেন, সারা বছরই চুড়ি বিক্রি হয়। ডজনপ্রতি রাবি চুড়ি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, রেশমি চুড়ি ২৫ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। তিনি আরও জানান, তার দোকানে ডজনপ্রতি ২৫ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০ টাকা দামের চুড়িও পাওয়া যায়।
নকশা ও মানের সাথে এ সব চুড়ির দাম কমবেশি হলেও মোটামুটিভাবে ৭০-১০০ টাকায় পাওয়া যাবে একমুঠি চুড়ি। প্রতি মুঠিতে চুড়ি থাকবে ৪২ টি করে। মুঠি ছাড়াও সেট হিসেবে চুড়ি পাওয়া যাবে তবে সেক্ষেত্রে যথাক্রমে সেট প্রতি ২০০-২৫০ টাকা গুনতে হবে।আবার রেশমী চুড়ির দাম তুলনামূলক ভাবে কম।একটু ভালো মানের এক ডজন চুড়ির দাম পড়বে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। আর মেটালের চুড়ির ক্ষেত্রে মেটালের সেট চুড়িগুলোতে চিকন-মোটা মিলিয়ে দুই ডজন চুড়ি থাকে। এগুলো এক সেট পরলেই হাত ভরে যায়। রঙ, মান এবং নকশার ওপর ভিত্তি করে দাম পড়বে ৪০ থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত। তবে মেটালের সব চুড়িতে জরি-চুমকি দিয়ে নকশা করা থাকে, তাই এসব চুড়িতে পানি না লাগালেই ভালো।আর তাছাড়া আজকাল অক্সিডাইসের চুড়ি পরাও লক্ষ্য করা যায়।সরু ও মোটা কালচে ধাতুর এসব চুড়ির দামও হাতের নাগালের মধ্যেই।আর হাল ফ্যাশনের চুড়ির মধ্যে আলাদা করে বলতে হয় জয়পুরী চুড়ির কথা। হালকা মেটাল, কাঁচ ও মাটির মিশ্রণে তৈরি জয়পুরী চুড়ি এখন অনেক জনপ্রিয়।নকশাভেদে এসব চুড়ির দাম পড়বে প্রতি জোড়া ১৪০-৮০০ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে থেকে টিএসসি মোড়, কলা ভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ছবিরহাট, দোয়েল চত্বরে বসে বাহারি চুড়ির বাজার। এছাড়াও ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সামনে, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চকেও পাওয়া যায় রেশমী চুড়িসহ হরেক রকম চুড়ি। বসুন্ধরা সিটি থেকে শুরু করে শহরের প্রায় সবগুলো মার্কেট ও শপিংমলে পাওয়া যাচ্ছে বাহারী এসব চুড়ি।
ললনাদের গড়ণ অনুসারে চুড়ি
হাতের গড়ন অনুযায়ী চুড়ি নির্বাচন করা উচিত। জন্মদিন বা বিয়ের কোনো অনুষ্ঠানে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মাঝখানে দুটি করে সোনালি বা রূপালি চুড়ি পরে হাতের সৌন্দর্যকে আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারেন। গোলাকার হাতের অধিকারীরা পছন্দমত যে কোনো চুড়ি পরলেই তাদের হাতে মানিয়ে যায়। কিন্তু যাদের হাতের গড়ন পাতলা, তাদের হাতে মোটা বালা ভালো মানায়, আর যাদের হাতের গড়ন চ্যাপ্টা তারা চিকন কাচের বা ধাতব পদার্থের চুড়ি বেছে নিতে পারেন।

আড়ং, রঙ, বিবিয়ানা, ক্রে-ক্র্যাফট, যাত্রা, গ্রামীণ ছাড়াও প্রায় সব ফ্যাশন হাউসেই এ ধরণের চুড়ি পাওয়া যায়। এছাড়াও শপিংমলের কাঁচের আলমারির পাশাপাশি ফুটপাতের ছোটখাট দোকান গুলোতেও থরে থরে সাজিয়ে রাখা এসব চুড়ি খুব গর্বের সাথেই নজর কেড়ে নেয় ললনাদের।
হাতের গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে দু’হাত ভরা চুড়ি হাতের সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দেয়, তেমনি সাজকে করে পরিপূর্ণ।
সবশেষে ‘চুড়ি’ নিয়ে কবিতাটি দিয়ে শেষ করছি—
মন ভোলানো কারুকাজে
দেখনা কেমন মাতাল করা
রিনিক ঝিনিক নাড়াচাড়া
পেলব আলোয় হাত পেতে ধর ছুঁড়ি!
... ... ... ... ... ... ...
হাত মেলে ধর পরিয়ে দেই
দুঃখ-সুখের চুড়ি।
ঢাকা, ২১ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





