[i]এই ফুল ফুল না
দামী ছোট গয়না
সে নারী পরে না
স্বামী যার রয় না।[/i]
আবহমান গ্রাম্য নারীর ধারণা ছিল নাকফুল বিবাহিত নারীর চিহ্ন। আধুনিক নারীরা সে সংস্কার থেকে বেরিয়ে আসছে। মার্জিত ও রুচিশীল নারীর কাছে নাকে ফুল পরা শুধু বিয়ের চিহ্ন নয় বরং ফ্যাশন। গ্রাম-বাংলার নারী জীবনে এক সময় নাকে ফুল পরা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু আজ আধুনিক অঙ্গসজ্জার একটি অংশ। বড়, ছোট, বিবাহিত, অবিবাহিত যে কোন বয়সের নারীর সৌন্দর্য বর্ধনে নাকের ফুল।
দাদি-নানিরা নাকফুল পরতেন অভ্যাসবশে। এ দিয়ে ভালো দেখানোয় বিশেষ নজর ছিল না। আজ এটা মেয়েদের কাছে ফ্যাশনের প্রিয় অনুষঙ্গ। ক্ষুদ্র এই গয়না এখন তরুণীদের ফ্যাশন ট্রেন্ড।
মুসলিম সমাজে বিয়ে হলে নারীদের নাকে বিয়ের চিহ্ন থাকে! নাকফুল হচ্ছে বিবাহিত জীবনকে সুন্দর ও সুখী করে গড়ে তোলার একটি সাজ। বিয়ের তারিখ হওয়ার পরপরই শুরু হয় নাকফুল কেনার হৈচৈ। নতুন বউকে কেমন নাকফুল উপহার দেবে তা নির্ভর করে বউয়ের চেহারা, গায়ের রং ও চেহারার আকৃতির ওপর। নাকে নাকফুলের সৌন্দর্য একজন বিবাহিত নারীকে আরও বেশি সুন্দর করে তোলে এবং নতুন বউয়ের সাজকে পরিপূর্ণ রূপ দেয়। বিয়ের দিন বউয়ের নাকফুলের ওপর নজর পড়ে সবার। বউয়ের নাকফুলটি কী দিয়ে তৈরী? সোনা, রুপা, হীরা, মুক্তা, ইমিটেশন না অন্য কোনো মূল্যবান পাথরের।
[b]সকল পোশাকে নাকফুল[/b]
শাড়ী থেকে শুরু করে কামিজ, জিন্স, ফতুয়া সব ধরণের পোশাকের সাথেই তরুণীরা ব্যবহার করছে নাকফুল। যেকোনো উৎসবের সাজে পূর্ণতা আনতে নাকে ফুল পরা অপরিহার্য ।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397816445.jpg[/img]
এমনকি ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পোশাক থেকে শুরু করে পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গেও মানিয়ে যায় অঙ্গসজ্জার এই ছোট্ট উপকরণটি।
[b]সকল বয়সে নাকফুল[/b]
নাকে ফুল সব বয়সের নারীই পরছে। নকশা করা একটু বড় আকারের নাকফুল কিছুদিন আগেও জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু এখন ছোট সাইজের নাকফুলই রয়েছে পছন্দের শীর্ষে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ছোট্ট পাথরের নাকফুলই ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে তরুণীরা। নথ বা রিং পড়তেও পছন্দ করেন অনেকেই।

তবে পরিবেশ পরিস্থিতি ও পোশাকের ওপর ও নির্ভর করে কি ধরণের ফুল নির্বাচন করা হবে।
[b]যেকোন উৎসবে নাকফুল[/b]
যেকোনো উৎসব, বিশেষ উপলক্ষ কিংবা কোন জমকালো অনুষ্ঠানে শাড়ির সঙ্গে একটু বড় সোনার ফুল খুব ভালো মানিয়ে যায়। জমকালো ভাব ফুটিয়ে তুলতে হীরার ফুল অতুলনীয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397815410.jpg[/img]
বর্তমানে সাদা সোনার নাকফুলও বেশ জনপ্রিয়। আর সবসময় যে কোনো পোশাকের সাথে ছোট পাথরের বা সোনার ফুল বেশি মানানসই। যাদের নাক ফোঁড়ানো নেই তারা পরতে পারেন টিপ ও চুম্বকের ফুল।
[b]সুন্দর উপহার নাকফুল[/b]
কারো বিয়েতে ডায়মন্ড বা সোনার নাকফুল উপহার হিসেবে চমৎকার একটি উপহার।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397815425.jpg[/img]
বিবাহবার্ষিকীর উপহার হিসেবে আধুনিক নারীর প্রিয় উপহার এই নাকের ফুল।
[b]নাকফুলের বাহার[/b]
নাকফুল সোনা, রুপা, হীরা ও ইমিটেশনের হয়। নকশায় রয়েছে বৈচিত্র্য। নাকফুলের ওপর গোলাকার, চৌকোণ, তারা, ফুল ও ত্রিভুজ আকৃতির বিভিন্ন রঙের পাথর বসানো থাকে। সাধারণ পাথর ছাড়াও রুবি, পান্না, চুনি, এডি, নীলা, জিরকন প্রভৃতি পাথর বসানো নাকফুল এখন বেশ চলছে। শুধু শাড়িই নয়, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, এমনকি টি-শার্টের সঙ্গেও দিব্যি মানিয়ে যায় এই নাকফুলগুলো।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397815390.jpg[/img]
বিভিন্ন রত্নপাথর ছাড়াও এখন হীরার নাকফুল বেশ চলছে। এসব নাকফুলে গোল্ড ও হোয়াইট গোল্ডের ওপর ছোটবড় বিভিন্ন সাইজের হীরা বসিয়ে ডিজাইন করা হচ্ছে। সোনার ওপর মুক্তা বসিয়েও বাহারি নাকফুল তৈরি হচ্ছে। সোনা ছাড়াও রুপার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া বিভিন্ন রত্নপাথরের নাকফুলও এখন বেশ চলছে। দাম কিছুটা কম হওয়ায় তরুণীরা ঝুঁকছে এসব গোল্ডপ্লেটেড নাকফুলের দিকে। নাকফুলের পাশাপাশি নথও এখন আলোচনায়। গোলাকার, ত্রিকোণ বা চৌকোণ_বিভিন্ন ডিজাইনের নথ এসেছে বাজারে। শুধু সোনা বা সোনার মধ্যে পাথর বসানো নথেই রয়েছে বেশ কয়েকটি নকশা। স্টোন বসানো নথের মধ্যে সাদা পাথরের নথ এখন ফ্যাশন ট্রেন্ড।
[b]সঙ্গে কেমন পোশাক[/b]
ইচ্ছা করলে পোশাকের রঙের সঙ্গে নাকফুলের পাথরের রং মিলিয়ে পরতে পারেন। পাথর ছাড়া শুধু সোনা বা রুপা দিয়ে তৈরি নাকফুল শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, জিন্স-টপসের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397815394.jpg[/img]
সোনা বা হীরার নাকফুল সব সময় পরতে পারেন। এর রং নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। কিন্তু ইমিটেশনের নাকফুল ভিজলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলো পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বিশেষ কোনো সময়ের জন্য বেছে নিতে পারেন। শুরু থেকেই বাঁ নাকে ফুল পরার প্রচলন ছিল। তবে ফ্যাশনে বৈচিত্র্য আনতে অনেকেই এখন ডান নাকে ফুল পরেন। আপনি ইচ্ছামতো নাকের ডান অথবা বাঁ দিকে ফুল পরতে পারেন। মূলকথা হচ্ছে, একটি নাকফুলের মাধ্যমে নিজেকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা।
[b]ফোঁড়ন বৃত্তান্ত[/b]
নাকে ফ্যাশনেবল নাকফুল পরতে চাইলে নাক ফোঁড়াতে হবে। ব্যথার ভয়ে অনেকেই নাক ফোঁড়াতে চান না। এখন ব্যথা ছাড়াই বিউটি পারলারগুলোতে নাক ফোঁড়ানো হয়। পারলারগুলোতে একটি পুশপিন গানমেশিনের সঙ্গে যুক্ত করে ফায়ার করে নাকের সঠিক অংশে ছিদ্র করা হয়। এ সময় অ্যান্টিবায়োটিক স্প্রে করে নেওয়া হয়। ফলে ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।আর তার তি-চার দিন পর পুশপিনটি খুলে পছন্দসই যেকোন ধরণের নাকফুল বা নথ ব্যবহার করতে পারেন। তবে নাক ফোঁড়ানোর পর প্রথমে সোনার নাকফুল পরলে ফোঁড়ানো অংশ পেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। পারলারভেদে নাক ফোঁড়াতে খরচ হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।
[b]কার জন্য কেমন[/b]
ফ্যাশন যা-ই হোক, তা ব্যক্তির সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই। নাকফুলের কথা বললেই চলে আসে নাক আর মুখের বিষয়টি। নাক ও মুখের গড়নের সঙ্গে নাকফুল মানানসই হলেই কেবল তা ফ্যাশনেবল।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397815398.jpg[/img]
কার জন্য কেমন নাকফুল_এ বিষয়ে গয়না-ডিজাইনার লায়লা খায়ের কনক বলেন, 'নাক ছোট আর খুব বেশি বড় না হলে এক পাথরের ছোট্ট নাকফুল পরুন। নাক বড় ও চোখা হলে ছোটবড় সব ধরনের নাকফুলই পরতে পারেন। বড় ও চ্যাপ্টা মুখে বড় নাকফুল ভালো লাগে। আবার মুখ ছোট হলে ছোট নাকফুল ভালো মানায়। মুখ বড়-ছোট যা-ই হোক, নথ কিন্তু সবাইকেই ভালো মানায়। আর সব সময়ের জন্য নাকে এক পাথর বা হীরার ছোট নাকফুল ব্যবহার করুন।
[b]কোথায় পাবেন নাকফুল [/b]
সোনা ও হীরার নাকফুল পাবেন বায়তুল মোকাররম, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, আড়ং বা যেকোনো জুয়েলার্সে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397815405.jpg[/img]
ইমিটেশনের নাকফুল পাবেন ঢাকার নিউ মার্কেট, চকবাজার, চাঁদনী চক ও গাউছিয়ায়।
[b]দরদাম[/b]
রুবি, পান্না, চুনি, নীলা, জিরকন প্রভৃতি পাথর বসানো সোনার নাকফুল পাবেন ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। সোনার ওপর মুক্তা বসানো নাকফুল ৭০০ থেকে ১৩০০ টাকা, শুধু সোনার নাকফুল ডিজাইন ও ওজনভেদে ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397815416.jpg[/img]
বিভিন্ন ডিজাইনের হীরার নাকফুল হীরার আকৃতিভেদে চার হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। রুপার নাকফুলের দাম কিছুটা কম। রুপার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া নাকফুল পাবেন ২০০ থেকে ৬০০ টাকায়। রুপার ওপর মুক্তা বসানো নাকফুল ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। সোনার দোকান ছাড়াও বিভিন্ন শপিং মলের প্রসাধনীর দোকানে পাবেন ইমিটেশনের এক পাথরের ছোটবড় বিভিন্ন আকৃতির নাকফুল। দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। এ ছাড়া বাজারে পাবেন হরেক ডিজাইনের নথ। শুধু সোনার নথ ৮০০ থেকে ১৭০০ টাকা। সোনার সঙ্গে পাথর বসানো নথ পাবেন ৬০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। সোনার প্রলেপ দেওয়া রুপার নথ ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ইমিটেশনের টিপ নাকফুল ও নথের দাম পড়বে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।
[b]ঢাকা, ১৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]