বুধবার কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দ্রুত কাঁচপুর টার্মিনালের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুরুতে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে দূরপাল্লার বাসগুলো সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার জন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ‘শাটল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া গুলিস্তান বাস টার্মিনাল বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলছে। ডিএসসিসি প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মের ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন টার্মিনালটিতে প্রায় ৪০৫টি বাস রাখার সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাসের পার্কিং, ২২টি বাস বে, পাঁচটি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন ও ১০৬টি টিকিট কাউন্টার থাকবে। এ ছাড়া পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ছয়টি টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
টার্মিনালে ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস এবং ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমের সংস্থান রাখা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন।
এস











