শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়। তবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে এ জনগোষ্ঠী থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষ প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে একগুচ্ছ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থীদের বয়সসীমা অন্তত দুই থেকে তিন বছর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে চালু করা ‘পিঙ্ক বাস’ যেন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরাও সহজে ব্যবহার করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপযোগী আধুনিক গণপরিবহন চালুর নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ভবন ও অবকাঠামোতে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে নকশা সংশোধনের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যোগাযোগ সহজ করতে ইশারা ভাষার বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ শুমারি করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া তাঁদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রতিনিধিত্ব, কর্মসংস্থান, যাতায়াত, অবকাঠামো এবং আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এস















