বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তো অনেক দেরি। এক মাসে বহু কিছু হয়ে যেতে পারে।”
অভ্যন্তরীণ কর্মব্যস্ততা ও সাংবিধানিক সূচি
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান ও সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রয়েছে, আর সামনে আবার পার্লামেন্ট সেশন বসবে। সবকিছু নিয়েই দেশের ভেতরে আমাদের অভ্যন্তরীণ অনেক কর্মসূচি আছে এবং সেগুলোর কাজ পুরোদমে চলছে। সামনে সাংবিধানিক অনেক কাজ জমা হয়ে আছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সেই জায়গা থেকে সরকার অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে, প্রধানমন্ত্রীও ব্যস্ত। তার মধ্যেই যদি সব সূচি এবং পরিস্থিতি অনুকূলে আসে, তবে অবশ্যই ভারত সফর হবে, জাপান সফর হবে অন্যান্য সব দেশেই সফর হবে। বিষয়টি সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো, দেখা যাক কি হয়।”
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র সফরের বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি এবং দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও প্রত্যাশা
বাংলাদেশ ও ভারতের সার্বিক কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে জটিল অনেক সমস্যার সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়।
তিনি বলেন, “যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়, তখন দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগটা তো এখনও রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে এই সুযোগের সঠিক ও সদব্যবহার করা।”
ভারতের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান
ভারতের মাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে শামা ওবায়েদ কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা তো আগেই বলেছি, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় বা কথা বলে, সেটা বাংলাদেশের জনগণ কোনোভাবেই ভালোভাবে নেবে না এবং নেয়ও না।”
জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরিবর্তন এখনও মানুষের মনে একদম জাগ্রত আছে। রাজপথের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই মানসিক জায়গাটা থেকে ভারতকে অবশ্যই সংবেদনশীল হতে হবে।”
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসবেন, তখন অবশ্যই বড় বড় অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমরা সেটাই আশা করি এবং ভারতের পক্ষ থেকেও বিষয়টি মনে রাখা উচিত।”
চূড়ান্ত হয়নি কোনো সফর
সংবাদের শেষাংশে বিদেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরের চূড়ান্ত সূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশের সফর চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ভারত সফরসহ অন্যান্য কোনো সফরই এখনও ফাইনাল বা চূড়ান্ত করা হয়নি। বিষয়টি দুই দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই চূড়ান্ত করা হবে।”
এমএম