শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘পলিটিক্স ল্যাব: বাংলাদেশে তরুণ নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক পাবলিক ডায়ালগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মক্কা প্যাক্ট ও বহুপাক্ষিক জোট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। যেকোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করা বা না করা দেশের সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে সরকার যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। অন্য কোনো রাষ্ট্র কী প্রতিক্রিয়া দেখালো, তার ওপর ভিত্তি করে দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে না। এই ধরনের যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা দেশের গণমাধ্যমের মাধ্যমেই আগে প্রকাশ করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ও ব্যস্ততা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ জানান, বিগত ছয় মাসে মন্ত্রণালয়ে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা গত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতাকে অতিক্রম করেছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মপ্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: নতুন উইং চালু: কাজের সুবিধা ও ক্ষেত্র প্রসারে সম্প্রতি ৩টি নতুন উইং চালু করা হয়েছে। নিরাপদ অভিবাসন: অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সুগম করতে জোরালো ভূমিকা রাখা হচ্ছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি: কাজের সমন্বয় বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের এই বিশাল চাপ ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকার দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আগামী এক বছর বিশ্বমঞ্চে তাঁকে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করতে হবে। ফলে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক কাজের গতি বেগবান রাখতে সম্মিলিত টিমওয়ার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বর্তমান কূটনৈতিক দল।

এমএম