শুক্রবার (২১ আগস্ট) ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস এ রায় দেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, তা ‘স্পষ্টত বেআইনি’ এবং কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে বিচারক বলেন, শুধু আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসী ভিসা পুরোপুরি স্থগিত করা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন। কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যে কর্তৃত্ব রয়েছে, ওই নীতির মাধ্যমে তারও সীমা অতিক্রম করা হয়েছে।

জানুয়ারিতে নীতিটি কার্যকর হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার নাগরিকদের ওপর এর প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরাও এর আওতায় পড়েন।

সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। এ ধরনের ব্যক্তিদের ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপের কথা জানানো হয়েছিল।

তবে আদালতের রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

অভিবাসী অধিকার রক্ষাকারী দুটি সংগঠন—ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার—এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক ও তাদের স্বজনদের জন্য ভিসার আবেদনকারী কয়েকজন মার্কিন নাগরিক এই মামলা করেন।

তাদের অভিযোগ ছিল, সরকারের নেওয়া কঠোর ভিসা নীতি অভিবাসীদের অধিকার ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থি। একই সঙ্গে নীতিটির ফলে জাতিগত বৈষম্যের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের যুক্তিতে প্রশাসন একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট সে সময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন—এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করতে দপ্তর তার দীর্ঘদিনের আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবে।

তবে আদালতের সর্বশেষ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নীতির বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এস